Bangladeshi Broadsheet

One stop web portal for Bangladeshies in Australia

Next Text Post New Entry

In solidarity with YOU....

Posted by Elora Zaman on February 24, 2013 at 8:10 PM Comments comments (0)

সমরে আমরা,শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে --বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

 

সকাল ৯টা ৫ মিনিট। ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল দরবার হলে প্রবেশ করেন। তাঁর কাছে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুজিবুল হক প্যারেড হস্তান্তর করেন। এরপর ডিজি ও ডিডিজি মঞ্চে নির্দিষ্ট আসনে বসেন। বিডিআরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম সিদ্দিকুর রহমান কোরআন তেলাওয়াত করেন। (এই পেশ ইমাম বিদ্রোহীদের নৃশংসতা মেনে নিতে পারেননি, বিদ্রোহের কিছুদিন পর মার্চের প্রথম সপ্তাহে তিনি হৃদরোগে মারা যান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি অবিশ্বাস করতেন বিদ্রোহ হয়েছিলো বিডিআর জওয়ানদের দ্বারা, ডাল-ভাত কর্মসূচী নিয়ে!) কোরআন তেলাওয়াতের পর দরবারের সবাইকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে বক্তৃতা করেন মেজর জেনারেল শাকিল। তিনি আগের দিনের প্যারেডের প্রশংসা করেন। এরপর তিনি 'অপারেশন ডাল-ভাত' কার্যক্রম প্রসঙ্গ তোলেন। M.জেনারেল শাকিল জানতে চান, ডাল-ভাতের দৈনিক ভাতা সৈনিকরা ঠিকভাবে পেয়েছে কিনা। এরপর আরও কিছু কথা....অস্ত্র নিয়ে মুখে মাস্ক পড়া এক বিদ্রোহীর অতর্কিতে প্রবেশ এবং গুলি... হুঙ্কার দিয়ে বলে, 'সবাই সিঙ্গেল লাইন করে দাঁড়া।' লাইনে ডিজি সবার সামনে দাঁড়ালেন। তারপর কিছুটা জ্যেষ্ঠতা মানার মতো সবাই লাইনে দাঁড়ালেন। নির্মম, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের দিকে এগিয়ে গেলেন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তারা। এরপর বিশ্ববাসী দেখল এক নিষ্ঠুর বর্বর অধ্যায়..

 

২০০৯ সালের এই দিনটির কথা মনে আছে ? পিলখানার চারদিকে লাশের মাতম, গণকবরে লাশের স্তূপ। বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের বুলেটে স্তব্ধ হয়ে যায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ টি প্রাণ। কালের খেয়ায় হারিয়ে গেছে ভয়াল সেদিনের বুলেট, কামানের গর্জন। থামেনি স্বজনহারাদের কান্না!

বাঙালীর "গোল্ড ফিশ মেমোরী" অতি সহজেই আমরা ভুলে যাই কলিজার ক্ষত , রক্তের দাগ, স্বজনহারার গগনবিদারি হাহাকার। ইস্যুর পর ইস্যু ধুয়ে মুছে যায় নতুন ইস্যুর হিসুর তোড়ে! কর্নেল গুলজারের আ্যকশন গুলো যারা টিভিতে দেখে রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলেন একসময় তারাও ভুলে গিয়েছেন। বেঁচে যাওয়া এক মেধাবী ব্রিগেডিয়ার চৌধুরি ফজলুল বারী এখনও অন্যদেশের রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থি! অতি উৎসাহী কেউ আবার ভেবে বসবেননা যে, মুজিব হত্যার সাথে উনি জড়িত-তখন তিনি নিতান্তই একজন কিশোর ছিলেন! আমরা বেমালুম ভুলে বসে আছি সেসব কথা। একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সাজা এক ধাপ বাড়ার জন্য আরও রক্ত নিতে আর রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সুযোগ করে দিতে আমরা বেশ মরিয়া। ৯০ বছর বয়স্ক বিতর্কিত গোলাম আজমের দলের ঘাড়ে পা দিয়ে ক্ষমতায় আসার সময় মনে ছিলোনা ওরা যুদ্ধাপরাধী (আসলে সেটা হবে মানবতাবিরোধী, অনেকেই ব্যাপারটা এক করে ফেলেন, পাকআর্মিরা যুদ্ধাপরাধী, কিন্তু বেসামরিক কোলাবরেটরদের কে যুদ্ধাপরাধী বললে গ্রহণযোগ্য হবেনা, ব্যাপারটি মানবতাবিরোধী ইস্যু), মানবতাবিরোধী অপরাধ দোষে দুষ্ট। ৪২ বছর পর এসে হঠাৎ করে চৈতন্যে চিতার আগুনের কাছে বাকি সব ইস্যু আজ যেন শিশু! ৪২ অংকটি এখন ৪২০ এ পরিনত হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়!

 

পাশার গুটি উল্টে গিয়ে হয়ে গেল আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু। "আল্লাহ দিলে থাবা, পালাবি কই বাবা?" ভালোই হয়েছে, Every cloud has a silver line! "থাবা বাবা" থাবা খাবার আগে সবকিছু ঠিক ঠাক ছিলো, অনেকের ফায়দা হাসিলের ময়দান আজকের শাহবাগ হতে পারত একটা ইতিহাসের কলংক ঢাকার ইতিহাস। কিন্তু নাহ, ইতিহাসটি তৈরী হবার আগেই চুরি হয়ে গেল, বাংলার ইতিহাসে এটা নতুন নয়, আগেও ঘটেছে এইরকম ঘটনা। মাওলানা ভাসানী যিনি শেখ মুজিবের রাজনৈতিক গুরু, তাঁর জীবনী পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্য বই থেকে বাদ দিয়ে,আমাদের স্বাধীনতা আর জাতীয়তার জন্য যাদের রক্ত ও ঘাম ঝরেছে তাদের ইতিহাস বাদ দিয়ে আমরা নতুন এক ইতিহাস তৈরির আশায় মাইক নিয়ে টানাটানি করছি, কিংবা কী-বোর্ডের খটখটানি বাড়াচ্ছি! হায়রে পঁচে যাওয়া বিবেক, ক্ষমতার লোভ এতটাই তীব্র যে ঐ নির্লোভ, মজলুম জনদরদী, মাথায় সর্বক্ষন টুপি আর সফেদ লম্বা দাঁড়িওয়ালা লোকটিকেও সরিয়ে দেয়া হল ইতিহাস থেকে! মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী- আপনি সারাজীবন কষ্ট করে গিয়েছেন দুনিয়াতে থেকে, নিজের আহার নিজেই রান্না করে খেতেন মাটির চুলায় ছানি পড়া চোখে ধোঁয়ায় তৈরি পানি মুছতে মুছতে, আপনার মুখে ছিলোনা হাভানা চুরুট! আল্লাহর পবিত্র কালামেই আপনার তৃপ্তি ছিলো, আপনি পরপারে ভালো থাকুন মাওলানা-পরমকরুণাময়ের কাছে আমার এই কামনা।

 

সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা। ক্ষমতায় পাকাপাকি হয়ে যাবার বন্দোবস্ত অথবা প্রতিশোধ কিংবা ক্রোধের আগুন নেভানোর একটা নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ, এটা জনগনকে নতুন করে মনে করিয়ে দিয়ে আর ঐ গোল্ড ফিশের অপমান করা নয়। বাঙালীর ১৩০০ গ্রাম ভরের মস্তিষ্কেও যে এখন ওসব ধরবেনা সেটা বুঝতে পেরেছি। আমাদের কোনকালে কোনো সমস্যা ছিলোনা আর এখনও নেই। সব ঐ কাদের মোল্লার ফাঁসীর সাথে খতম হবে। জাফর ইকবালের ভাই হুমায়ুন আহমেদ আমাদের বৃষ্টি দেখা শিখিয়েছেন, জোৎস্না দেখা শিখিয়েছেন কিন্তু শুধু তাঁর সাড়া জাগানো চরিত্র নান্দাইলের ইউনুসরেই জনগন এখনও পাইলোনা কাদের মোল্লার ভবলীলা সাঙ্গ করতে! এতগুলো মানুষ জড়ো হয়ে এক কাদেরের ফাঁসীকে কেন্দ্র করে যেই নাটকের অবতারনা করল সেটার সাথে হু আ এর নিমফুল নাটকের মিল পাই, ঐযে, মনা ডাকাত আর উত্তেজিত গ্রামবাসী, তাঁরপর খেঁজুরের কাঁটা দিয়ে চোখ তোলার গল্প আর একজন মায়াবতী চেয়ারম্যান কন্যা! নাহ, আজকাল অগ্নিকন্যাদের যুগ চলছে, চেয়ারম্যান কন্যারা জন্মায়না, অগ্নিকন্যারা নিজের ছোটভাই এর বয়সী বালক আর বাবার বয়সী বৃদ্ধদের লাশের অপক্ষায় লালা ঝরায়।

আজকের দিনটি আমার জন্য খুবই করুণ! মনটা ভারি হয়ে আছে... আজ বিষোদগার করার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছি। একটা রাষ্ট্রের কি পরিমান শ্রম আর মেধা, কতগুলো বছর লাগে একেকজন আর্মি অফিসার তৈরী করতে সেটার হিসেব কেউ নাইবা রাখলো, একদিনের মধ্যে এতদিনের অনুশীলন,পরিশ্রম,অর্থ আর জিবীত থাকার অধিকার হরণের খেরোখাতা কি কেউ পড়ে দেখছে? কষ্টগুলোর বর্ননার ভাষার চর্বিত চর্বনে আমি নিজেও বিরক্ত। শুধু কিছু প্রশ্ন রাখতে চাই সেনা কর্মকর্তার লাশকে সামনে রেখে :

 

1.২৫ শে ফেব্রুয়ারী প্রধান মন্ত্রীর কাছে প্রেরিত ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টটি কী? যা তিনি পার্লামেন্টে উল্লেখ করেছিলেন ?

 

2.কেন প্রধানমন্ত্রী ২৬তারিখের ডিনারের অনুষ্ঠানে আসার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলেন? তাহলে তিনি কি কিছু জানতেন আগে থেকে ?

 

3. লেফটেনেন্ট কর্নেল মুকিত কেন বিডিআর হেডকোয়ার্টার থেকে ২৫শে ফেব্রুয়ারী বিকেলে বাংলাদেশ আর্মী্র ও বিডিয়ার ডাইরেক্টরের বিরুদ্ধে টেক্সট মেসেজ পাঠালেন ?

 

5. কেন পিলখানার ৫ নং গেটে কোনও পুলিশ ও র্যাইব মোতায়েন করা হয়নি যেখান দিয়ে বিদ্রোহী জওয়ানরা পালিয়ে গিয়েছিল ?

 

6.কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানক এবং আযম কে দুপুর একটায় নিয়োগ দিলেন অথচ আরও চার ঘন্টা আগেই তাকে এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিল ?

 

7.কেন বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে আসা মধ্যস্থতাকারীদের নাম ও পরিচয় রেজিস্ট্রী করা হয়নি যখন তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সমঝোতার জন্য এসেছিলেন ?

 

8. বিদ্রোহী নেতা ডিএডি তৌহিদ প্রধানমন্ত্রীকে বিডিয়ার প্রধানের ও আরও কিছু অফিসারের হত্যার কথা জানানোর পরও কেন বিষয়টা সরকার ২৬ তারিখ বিকেল অব্দি গোপন রাখলেন ?

 

9. সরকার নিয়ন্ত্রীত বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন পিলখানার ঘটনার ব্যপারে কিছুই প্রচার করেনি যদিও অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন গুলো ব্যপকভাবে প্রচার করে যাচ্ছিল। এমনকি সংক্ষিপ্ত আকারেও কোনও সংবাদ প্রচার করেনি।

 

10. কেন বিদ্রোহীরা প্রধানমন্ত্রীকে “আমাদের নেত্রী” বলে বার বার দাবি করছিল ?

 

11.বিদ্রোহীরা যখন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিল তখন কেন তারা বার বার আওয়ামিলীগের (অধুনা ভার্চুয়াল শাহবাগীয় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন জনগনের) দলীয় স্লোগান “জয় বাংলা” দিচ্ছিল ?

 

12. সেদিন অনেক বিদেশী বিডিয়ার হেডকোয়ার্টারে ফোন করেছিলেন তারা কারা। বাংলাদেশ গোয়েন্দা সংস্থা কি এতই দুর্বল যে ঘটনার ৪ বছরের মধ্যেও সেটা বের করতে পারলনা ?

 

13. প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয় ২৭শে ফেব্রুয়ারী কিছু পলাতক বিদ্রোহীর সাথে দেখা করতে কেন দুবাই এসেছিলেন ? ঐসব বিদ্রোহীদেরকে রাতারাতি কারা দুবাই পাঠিয়েছিলো?

 

14. কেন জয় বাংলাদেশ আর্মীর ব্যপারে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন এবং এই বিদ্রোহের জন্য বাংলাদেশ আর্মীর আচরণকে কে দায়ী করেন যখন তিনি বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সাথে কথা বলছিলেন ?

 

15. কেন আওয়ামিলীগ নেতা মহিউদ্দীন খান আলমগির ২৭শে ফেব্রুয়ারী দেশ থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ?

 

16.মন্ত্রী ফারুক খান কেন বলেছিলেন যে, জঙ্গিরা বাংলাদেশের আইনবিভাগ ও সসস্ত্রবাহিনীতে ঢুকে পড়েছে ?

 

17. কেন সরকার ইন্সপেক্টর অফ পুলিস কে (যার জামাই বিদ্রোহের সময় নিহত হয়েছিলেন এবং মেয়ে ছিলেন বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি অবস্থায়) তদন্ত কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে ?

 

18. কেন নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার বিপদবানী করেছেন যে, ইংলিশ মিডিয়াম ও মিশনারি স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে জঙ্গী হামলার সম্ভাবনা রয়েছে ?

 

19.. সি আই ডি সাক্ষ্যপ্রমান সংগ্রহের নামে বিডিয়ার হেডকোয়ার্টার থেকে কী সরাচ্ছিল ? সেগুলো কোথায়?

 

20.আত্মসমর্পনের পরও কেন সরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য সরকারদলীয় সদস্যরা ২৬ তারিখ রাতের অন্ধকারে বার বার বিডিয়ার হেডকোয়ার্টারে যাতায়াত করছিলেন ?

 

21.কেন ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত সিকদার ঘটনার পর থেকে পলাতক ?

 

22.কেন আওায়ামিলীগ এবং এর সমমনা দল বা প্রতিষ্ঠান গুলো অব্যাহতভাবে ঘটনার দোষীদের বিচার কোর্ট মার্শালের বদলে সিভিল কোর্টে হওয়ার দাবি করছে ?কেন একটি আওয়ামী পন্থি সাংবাদিক গোষ্ঠি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাংলাদেশ আর্মীর বিপক্ষে দালালি করছে এবং পিলখানা হত্যা কান্ডের বিচার সিভিল কোর্টে হওয়ার দাবি করছে ?

 

23.কেন ক্ষমতাসীন্ দল ভারতের পত্রপত্রিকার সাথে সুরমিলিয়ে কথা বলেছে ?

 

24..পিলখানা ঘটনার দিন একজন সেনা কর্মকর্তার ভাষ্যমতে সকাল সাড়ে এগারটায় হত্যাকান্ড শুরু হয় ঐ সেনাকর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে এই স্বীকারক্তি করেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো ভারতীয় মিডিয়া সেদিন কিভাবে তাদের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে সকাল দশটায় এখবর নিশ্চিত করে যে, মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ সপরিবারে নিহত হয়েছেন? কিভাবে হত্যাকান্ড ঘটার আগেই ভিনদেশী মিডিয়া এ খবর নিশ্চিত করল? এবং কিভাবে তা পরে সত্য হল? যেখানে ২৬ তারিখের আগে বাংলাদেশের মিডিয়া ও বাংলাদেশ সরকার এখবর নিশ্চিত করতে পারলনা সেখানে ভারতীয় গোয়েন্দা ও মিডিয়া কিভাবে তা নিশ্চিত করল তাও আবার ঘটনা ঘটার আগেই ?

 

25.পিলখানা হত্যাকান্ডের পর কেন বিডিয়ার জোয়ানদের মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেল ?এবং এই মৃত্যু গুলো কোনটাই নর্মাল মৃত্যু নয়!

 

26. কেন আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার দায়ে পাঁচ সেনা কর্মকর্তাকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যদিও হত্যার চেষ্টার ঘটনাটা সাজানো ।তারপরেও প্রশ্ন জাগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কেন তাপসকে মারতে গেল ।তাহলে কি তাপস পিলখানা ট্রাজেডির সাথে জড়িত?

 

সবশেষে জানতে চাই,

কেন ঐদিন শহীদ হওয়া কিংবা বেঁচে যাওয়া আমার পরিচিত কোন সেনা কর্মকর্তার স্বজন কিংবা সন্তান “শাহবাগ চত্বরে” গিয়ে "ওয়াক থু" করেনা?

 

পাঠক, প্রজন্ম চত্বরের অপজন্ম নাটকে বিরতী এলে এই ইস্যুগুলো নিয়ে ভাবতে থাকুন, আমি এইফাঁকে নতুন ইস্যু নিয়ে লিখতে বসি।

 

ফুটনোট: ইতিহাস বিকৃতির আরও হাজারে হাজারে ইতিহাস আছে, এভাবেই এদেশে কালেরগর্ভে ইতিহাস বিকৃত হয়ে যায় আমাদের নাকের ডগা দিয়ে। কে জানে, হয়তো উত্তর প্রজন্ম এই আমাকেও রাজাকার বলে ডাকবে শুধুমাত্র আম্লিগান কিংবা নাস্তিকদের নিয়ন্ত্রিত শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দেই নাই বলে!

 

সকল সেনা কর্মকর্তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, প্রিয়জন হারানো সকল স্বজনের জন্য সমবেদনা, I stand in solidarity with you, I stand in solidarity with you in hating the evil of the world.

Jeebon Theke Neya.....3rd Episode

Posted by Elora Zaman on February 18, 2013 at 6:20 AM Comments comments (0)

3rd Episode:

 

১১-টেলিভিশনের মত সময় অপচয়কারী বস্তু আর নেই! আমার বয়স একুশ হওয়ার আগে আমি টিভি দেখে আমার জীবনের অনেক সময় অপচয় করেছি। আমার মনে হতো "অমুক প্রোগ্রামটি আমাকে দেখতেই হবে". এখন আমার সেই হারানো প্রতিটি সেকেন্ডের জন্যে খুব দুঃখ হয়। সারা পৃথিবী এগিয়ে চলে যাচ্ছিলো ভবিষ্যতের দিকে আর আমি বসে বসে টিভি দেখছিলাম!

বিংশ শতাব্দীতে টিভি একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিলো - সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ এবং সংবাদ এর জন্যে। কিন্তু এখন টিভির আর তেমন দরকার নেই। টিভির খবরগুলো সাধারণত পক্ষপাতিত্বপূর্ণ হয় যেখানে আমাদের অনেক বিকল্প সংবাদ মাধ্যম রয়েছে। আর টিভির অনুষ্ঠানগুলো থেকে শেখার প্রায় কিছুই নেই, যদিও এগুলো মানুষের দিন থেকে ঘন্টার পড় ঘন্টা নিয়ে নেয়। অথচ আমরা প্রায়ই অনুযোগ করি আমাদের হাতে সময় নেই!টেলিভিশন মানুষকে ঘরকুনো করে ফেলে।

ঘরের ভেতরে বসে টেলিভিশনের স্ক্রীন এর মতো জড় একটা জিনিসের দিকে তাকিয়ে থেকে জীবনকে কোনোভাবে সমৃদ্ধ করতে পারবেননা।

 

১২-ইন্টারনেট হচ্ছে মানুষের তৈরী সবচেয়ে উপকারি সুবিধা! কিন্তু এটাকে পরিমিতভাবে ব্যবহার করতে হবে !ইন্টারনেট হচ্ছে একটা সক্রিয় মাধ্যম। ইন্টারনেট নিয়ে আপনি অনেক কিছু করতে পারবেন, একটা ভার্চুয়াল সামাজিক জগতে ঢুকে যেতে পারবেন। ইন্টারনেট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে নানাভাবে সংযোগ স্থাপন করে এবং এটা ছাড়া আমার গত তেরো বছরের জীবন অনেক কঠিন হতো। ইন্টারনেটের এতো উপকারিতা সত্ত্বেও এটারো টেলিভিশনের মতোই সময় অপচয় করার সম্ভাবনা আছে। জীবনকে সমৃদ্ধ করার জন্যে ইন্টারনেট ব্যব্যহার করুন, কিন্তু সারাদিন এর মধ্যে পড়ে না থেকে বাইরে যেয়ে সেই সমৃদ্ধ জীবন উপভোগ করুন। টেলিভিশনের জড় স্ক্রীন এর জায়গায় কম্পিউটার এর অনেক কর্মকান্ডভরা স্ক্রীন ব্যবহার করলেই যে আপনার সময়ের সদব্যবহার হবে তা কিন্তু না। বাইরের পৃথিবী অনেক বেশি সুন্দর, বের হোন এবং সেটা উপভোগ করুন।

 

১3- জীবন নিয়ে তাড়াহুড়া করবেননা প্লীজ! সময় নিন। যেসব মানুষ কিংবা দেশ সবকিছু তাড়াহুড়ো করে করতে চায় তাদের কাজের কোয়ালিটি আসলে ততোটা ভালো হয়না। সবকিছু সহজভাবে নিন এবং ধীরে ধীরে কাজ করুন।

খাবারের প্রতিটি কামড় উপভোগ করুন, হাঁটার সময় চারপাশ দেখে ধীরে ধীরে হাঁটুন, কারো সাথে কথা বলার সময় তাকে তার কথা পুরোপুরি শেষ করতে দিন এবং সে পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সেটা শুনুন।

দিনের কাজের ভেতর মাঝে মধ্যে কাজ বন্ধ করে বাইরে তাকান, কিংবা চোখ বন্ধ করে একটা বড় নিঃশ্বাস নিন, বেঁচে থাকার জন্যে নিজেকে সুখী ভাবুন। বেঁচে থাকতে গেলে সুখানুভুতি অত্যন্ত জরুরী!

 

১৪-আপনি সবাইকে খুশি করতে পারবেননা!

"সফল হওয়ার উপায় হয়তো আমি জানিনা, কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার উপায় হচ্ছে সবাইকে খুশি করতে যাওয়া" - বিল কসবি।

নিজের মতামত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করুন। আপনার যদি আপনার মতামতের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস থাকে এবং সেই মতামত অন্যদের সাথে শেয়ার করেন তাহলে নিশ্চিতভাবে অনেক মানুষ আপনার উপর বিরক্ত হবে, আপনার কথাটা যতই চমৎকার হোকনা কেন। যারা আপনার সাথে একমত না এবং আপনার মত পছন্দ করছেনা এটা তাদের সমস্যা, আপনার না।

 

১৫- স্মার্ট হবার চেষ্টা করুন এবং বিবেচনা না করেই লেটেষ্ট ক্রেইজের পেছনে ছোটা আসলে আনস্মার্ট একটা ব্যাপার ! যারা সবসময় অন্যের দেখাদেখি নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করে তারা আসলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে ভয় পায়। নিজের মেরুদন্ড শক্ত করুন, এবং স্রোতের বিপরীতে যাওয়াটাকে যদি আপনার সঠিক পথ মনে হয় তাহলে শক্তভাবে তাই করুন। আজকে যেটা চমকপ্রদ কয়েক বছর পর সেটাই হয়তো সবার অপছন্দের জিনিসে পরিণত হবে।

 

১৬-ভুল করতে ভয় পাওয়াটা ঠিক নয়, ভয় পাবেননা। ভুলের মাধ্যমেই আমরা শিখি। সাফল্য আসে অনেক ভুলের পরেই ।

বেশি ভাবাভাবি বন্ধ করে কাজ করুন। বেশি ভাবতে যেয়ে জীবনের দরকারী কাজগুলো প্রায়ই করা হয়ে উঠেনা। আমি আমার জীবনে বেশি ভেবেচিন্তে একটা কাজও করতে পারেনি। বেশি চিন্তা না করে কাজে নেমে পড়ুন। নাহলে কিছুই আর করা হয়ে উঠবেনা।

 

১৭-সুযোগ পেলেই গাইতে এবং নাচতে চেষ্টা করুন। সেটা অন্যের সামনেই যে করতে হবে এমন নয়! গান এবং নাচ চমৎকার আর্ট এবং মনকে খুব হালকা করে। নাচানাচি কিংবা গান গাওয়া/শুনার পর মন ভালো না হয়ে উপায় নেই! মনকে শান্ত করবার জন্যা আরেকটি চমৎকার টনিক রয়েছে। সেটি হলো প্রার্থনা-যেটাকে আমরা নামাজ/সালাত বলি। আ্যপ্লাই করে দেখুন ভালো লাগবে! তাই বলে আপনাকে এক্সট্রিম হতে হবে তা নয় কিন্তু। যখন যেটুকু ভালো লাগবে সেটুকুই করুন, জোর করে চাপিয়ে নিয়ে নয়। ইসলাম মধ্যপন্থা অবলম্বনের কথা বলে। ধর্মের কিছু কিছু ব্যাপারে জোর করতে গেলে বিতৃষ্ণা আসতে পারে!

 

১৮- অনেকে ধর্মে বিশ্বাস করেননা। এটা একেবারেই বোকমি। নাস্তিকতাও একটা ধর্ম কারণ ধর্ম হলো একটা জীবন বিধানের নাম। চরম নাস্তিক বা অবিশ্বাসী মানুষও জন্ম এবং মৃত্যু নামক বিধানকে অস্বীকার করতে পারেনা! পুরোপুরি অবিশ্বাসী হওয়া আসলে সম্ভব নয়।

 

১৯- নতুন বন্ধু বানানো কঠিন কিছু না, এবং বর্তমান বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রাখাও জরুরী। আপনি যদি বন্ধুত্বপরায়ন, অকপট, এবং মোটামুটি মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখেন তাহলে পৃথিবীর যেকোনো জায়গার যেকোনো মানুষের সাথে আপনি বন্ধুত্ব করতে পারবেন।

 

২০- আপনার যা যা আছে তা হারিয়ে যাবার আগে সেগুলোর মূল্য বুঝবেন না। কোনো কিছুকেই খুব সহজপ্রাপ্য হিসেবে ধরে নিবেন না। একদিন রাতে সিঙাপুর এয়ারপোর্টে কোন এক বিশেষ কারণে আঠারো ঘন্টা ট্রানজিটে আটকে যেতে হয়েছিলোএবং আমাকে শীতের মধ্যে চেয়ারের উপর ঘুমাতে হয়েছিলো। সেই থেকে আমি আমার ঘুমানোর জন্যে যে একটা বিছানা এবং বাসা আছে সেটা নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ আমি জানি পৃথিবীর অনেক মানুষের এই মৌলিক জিনিসগুলোও নাই। কেবল এক রাতের বাইরে ঘুমানোর কষ্ট থেকে আমি এখন প্রতিদিন রাতে আমার বিছানায় ঘুমাতে যাবার আগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলি!

একবার আমার কানের ইনফেকশনের কারনে আমি প্রায় দুই সপ্তাহ কানে কিছু শুনতে পারতামনা। এরপর থেকে আমি আমার শ্রবণশক্তির জন্যে সবসময় কৃতজ্ঞ থাকি। সুস্থ কান থাকার কারণে আমি চারদিকের এতো সব চমৎকার শব্দ শুনতে পাই!

 

আগামী পর্বে সমাপ্য......

Jeebon Theke Neya... Episode 2

Posted by Elora Zaman on February 18, 2013 at 6:00 AM Comments comments (0)

2nd Episode:

 

4. নিয়তি বলে কিছু নাই, এবং এটা একটা সুখবর!

 

নিয়তি'র দোহাই দিয়ে আমরা অনেকেই জীবনে ভালো কিছু করা থেকে বিরত থাকি। আসল ঘটনা হচ্ছে নিয়তি বলে কিছু নাই ।

 

আপনার ব্যর্থতা কিংবা সীমাবদ্ধতা আপনার জন্ম কোথায় হয়েছে সেটার উপর নির্ভর করেনা, কিংবা আপনি কাকে চিনেন, আপনার জিন কেমন, আপনার কতো টাকা আছে, আপনার বয়স, আপনার অতীত, বা অন্য কোনো কিছুর সাথেই এর কোনো সম্পর্ক নাই। কোনো কিছুর দোহাই দিয়ে আপনার সীমাবদ্ধতাকে আপনি জাস্টিফাই করতে পারবেননা।

 

যদি সত্যিকারভাবে সংকল্পবদ্ধ হন, তাহলে জীবনে অর্জন করার অজস্র সুযোগ আছে - আপনি কে কিংবা আপনার কাছে কতো টাকা আছে এটা কোনো ব্যাপারই না।

 

5. আপনার থেকে ভিন্ন বিশ্বাস ও মতের মানুষের সাথে কথা বলুন এবং তাদের বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন

 

আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সাথে পৃথিবীর অনেক মানুষের বিশ্বাসের কোনো মিল নাই। কিন্তু মানুষ এই ভিন্ন বিশ্বাসে থেকেও জীবনের তাৎপর্য খুঁজে পায়। যদি সবাই আমার মতো বিশ্বাস করতো এবং ভাবতো তাহলে পৃথিবীটা একটা রসকষহীন জায়গায় পরিণত হতো।

 

অতএব আমি যখন আমার থেক ভিন্ন বিশ্বাসের কোনো মানুষের সাথে মিশি, তখন তাদেরকে আমার বিশ্বাসে নিয়ে আসার চেয়ে তাদের বিশ্বাস তাদের কাছে রেখে একসাথে মিলে চলার চেষ্টা করাই ভালো।

 

কেউ যখন তার কোনো বিশ্বাস এর ব্যাপারে "১০০% নিশ্চিত" এবং বহু বছর ধরে সেই বিশ্বাস ধারণ করে আসছে, তখন তাকে কিছু চালাকী কথাবার্তার মাধ্যমে তার বিশ্বাস থেকে সরানো যায় না। সবাই কিছু কিছু ব্যাপারে বদ্ধ মনের মানুষ, আমি নিজেও তাই।

 

কেউ যদি নিজে নিজের বদ্ধ মন থেকে বের হতে না পারে তাহলে তাকে সেটাই বিশ্বাস করতে দেওয়া উচিত। আপনিই ঠিক আর অন্যরা ভুল - পৃথিবীকে এটা বোঝানোর দায়িত্ব নেওয়ার দরকার নাই। কখনো কখনো হয়তো আপনার বিশ্বাসটিই ভুল!

 

পৃথিবী আরো অনেক বেশি মজার জায়গা হয় যখন সেখানে বিভিন্ন বিশ্বাসের এবং আগ্রহের মানুষ থাকে। আমার নিজের সন্দেহবাদীতা সত্ত্বেও আমি অনেক জ্যোতিষী, হস্তরেখা বিশারদ, অত্যন্ত ধার্মিক মানুষ, রক্ষণশীল মানুষ, এবং প্রযুক্তিকে ঘৃনা করে এমন অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। এবং সেজন্যে আমার জীবন অনেক বেশী বৈচিত্রময় এবং সমৃদ্ধ হয়েছে বলে আমি মনে করি!

 

আপনি যদি শুধুমাত্র যারা আপনার সব কথায় হ্যাঁ বলে এমন মানুষদের সাথে মিশেন তাহলে আপনি কখনো ভুল করছেন কিনা এটা জানার সুযোগ পাবেন না এবং নতুন জিনিস শিখতেও পারবেন না।

 

6. মানুষকে কোনো কিছু বিশ্বাস করানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে নিজে একটা চমৎকার জীবন যাপন করা

 

কথা কিংবা যুক্তি-তর্ক দিয়ে মানুষকে যতোটা না বুঝাতে পারবেন, যেটার কথা বলছেন সেটা নিজে করে তার চেয়ে অনেক ভালো বুঝাতে পারবেন। যখন মানুষ আপনাকে দেখবে, আপনার কাজ দেখবে, তখন আপনার ওদেরকে আর আলাদাভাবে বিশ্বাস করানোর দরকার হবে না। তাদেরকে শুধু বলুন আপনি আপনার কাঙ্খিত জিনিসটি অর্জন করেছেন, জীবনে যেখানে পৌঁছাতে চান সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন কিংবা সেদিকেই ধাবিত হচ্ছেন। এরপর তাদেরকে জানান কীভাবে আপনি সেটা অর্জন করলেন বা করছেন। তাহলেই সবাই বুঝতে পারবে আপনি আসলে ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছেননা শুধু।

 

7. পৃথিবীর কেউই সবকিছু জেনে বা পেয়ে বসে নেই .

সবারই কিছু না কিছু সমস্যা আছে, কিন্তু তারা সেটা গোপন করে চলে। আপনি যখন একজন মানুষকে দেখেন তখন শুধু সে তাকে যেভাবে বাইরের পৃথিবীর কাছে দেখাতে চায় সেটাই দেখেন। আপনি হয়তো ভাবতেও পারবেন না তারা কীসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, কিংবা যে সুখী অবস্থায় তাদের দেখছেন সে অবস্থায় আসতে তাদের কীসের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। এটা সবার জন্যে সত্যি - কোটিপতি, ছাত্রছাত্রী, স্মার্ট তরুণ-তরুণী, লাজুক মানুষটি, এবং আর যেকোনো ধরণের মানুষই বলুন না কেনো, তাদের সবারই ভেতরের একটা জগত আছে - বাইরে থেকে তাদেরকে যেমনই মনে হোক না কেনো।

 

কারো সম্পর্কে সবকিছু জানার আগে কখনোই ভাববেন না সে খুব সহজে জীবনে সবকিছু পেয়ে গেছে।

 

8. "আমি জানিনা" - এটা বলায় কোনো লজ্জা নাই

 

অনেকে কোনো বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করায় লজ্জা পান। এটা নিয়ে কোনো ভাবাভাবির অবকাশ নাই - জাস্ট বলে ফেলুন "আমি ব্যাপারটা সম্পর্কে জানিনা"। অজ্ঞতা লুকানোর চেয়ে সততা অনেক বেশি স্মার্ট একটা ব্যাপার।

 

9. আরো বেশি টাকা কখনোই আপনার সব সমস্যার সমাধান করবে না

 

আপনার যদি খাবার এবং থাকার জন্যে পর্যাপ্ত টাকা থাকে তাহলে এরচেয়ে বেশি টাকা ছাড়াও আপনি জীবন চালিয়ে নিতে পারবেন। এটা আরো ভালো করে বুঝতে পারবেন যদি আপনি অসচ্ছল অথচ মোটামুটি সুখী এমন মানুষদের সাথে মিশেন। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলি পেতে কোনো টাকা লাগেনা, আর বাদবাকী জিনিসগুলো আপনি যতো দামী ভাবছেন ততোটা দামী না।

 

10. আপনার সম্পদ আপনাকে কিনে নেয়

 

সত্যিকারের দরকারী জিনিসগুলো ছাড়া মানুষের অন্যান্য দামী সম্পত্তি-সম্পদ আসলে অন্যের কাছ থেকে স্বীকৃতি বা এক ধরণের লোক দেখানো ছাড়া কিছুই না। বেঁচে থাকা এবং জীবন যাপনে সুবিধার জন্যে দরকারী না হলে এসব দামী জিনিসপত্র ছাড়া আপনি অনায়াসে আপনার জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন।

 

যখন আপনি জীবনে দামী জিনিসপত্র ছাড়া চলতে পারবেননা তখন এই জিনিসপত্রগুলি আপনার জীবনকে পরিচালিত করবে। আপনার দামী বাড়ি বা ফ্ল্যাট এবং ঘরের দামী ফার্নিচার থাকার কারণে আপনি অন্য জায়গায় সহজে চলে যেতে পারবেন না, এবং এগুলো পাওয়ার জন্যে আপনাকে সবসময় অনেক বেশি উপার্জন করা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এবং আমার ধারণা এইসব দামী সম্পদ আপনার জীবনকে খুব বেশি সমৃদ্ধ করেনা। জীবনে যতো কম সম্পদ থাকবে ততোই আসলে ভালো।

 

##চলবে.............

 

Jeebon Theke Neya.....

Posted by Elora Zaman on February 18, 2013 at 5:55 AM Comments comments (0)

Episode 1.

কোনো এক ভ্রমন বিলাসী ভদ্রলোক আট বছর ধরে পৃথিবী ঘুরে বেরিয়ে যেসব শিক্ষা জীবন থেকে পেয়েছেন তার সাথে আমার তের বছর ধরে যাপন করা ভবঘুরে জীবনের চিন্তা ধারার কোথায় যেন মিল রয়েছে! এটি একটি অনুবাদ বলতে পারেন সিরিজ আকারে দেব, বিলাসের সাথে মাঝে মাঝে আমি কিছু মিশিয়ে একটা খিচুরির মত করেছি. একটু মনোযোগ দিয়ে দেখুন, কারো হয়ত কাজে লাগতে পারে. আর যদি বোর করে থাকি তবে ক্ষমা করবেন. ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ.

 

গত অক্টোবর ছিলো আমার ৩০ তম জন্মদিন, এবং এই সপ্তাহে আমার পৃথিবী ভ্রমনের তের বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাই ভাবলাম আমার এই তের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ২৯টি শিক্ষা আপনাদের সাথে শেয়ার করি। এগুলো বেশিরভাগই জীবন নিয়ে সাধারণ কথাবার্তা, কিন্তু এগুলো আমি শিখেছি সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানুষের সাথে মেশার পর.

 

এর আগে আমার জীবনের প্রায় সবটুকু আমি ব্যয় করেছি বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে। কিন্তু সেখানে আমি গুরুত্মপূর্ণ প্রায় কিছুই শিখিনি। বইয়ে লেখা জিনিসগুলো প্রায় সবই আমি আগে থেকে জানতাম, কিন্তু আমি যা হতে চেয়েছি জীবনে সেটা আমি শিখেছি পৃথিবীর পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে। এবং আমার নিশ্চিতভাবে এখনো অনেক কিছু শেখার আছে।

 

1. সব জায়গায় সব মানুষ আসলে একই জিনিস চায়

 

যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি অনেক ভিন্ন, আপনি ইটালিয়ান কোটিপতি থেকে শুরু করে গৃহহীন ব্রাজিলিয়ান, নেদারল্যান্ডস এর জেলে, ফিলিপাইনের কম্পিটার প্রোগ্রামার এর সাথে তাদের নিজের ভাষায় তাদের মতো করে কথা বলে দেখবেন যে তারা সবাই জীবনের গুরুত্মপূর্ণ জিনিসগুলোর ব্যাপারে একই রকম চিন্তা করে।

 

সবাই চায় স্বীকৃতি, ভালোবাসা, নিরাপত্তা, বিনোদন, এবং একটা ভবিষ্যতের আশা। এই চাওয়াগুলির প্রকাশ এবং এগুলো পাওয়ার জন্যে সবার কাজে পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এই বাহ্যিক ব্যাপারগুলো উপেক্ষা করলে দেখবেন পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ আসলে প্রায় একই জিনিস চায়।

 

2. সুখ ভবিষ্যতের জন্যে তুলে রাখা বড় ভুল

 

অসংখ্য মানুষ ভাবে "ওই একটা জিনিস" যদি ঠিক হয়ে যায় "তাহলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে"।

 

এটা একটা ঘোর (ডিলুশন;)

 

যখন "ওই একটা জিনিস" ঠিক হবে, তখন "আরো একটা" জিনিস আপনার জীবনে বাকি থেকে যাবে। জীবনে কখনো সবকিছু একসাথে আপনার কাছে ধরা দিবেনা। আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জীবনে সুখী হওয়া শুধু একটা জিনিস ঠিক হয়ে যাওয়ার উপর নির্ভর করেনা, এভাবে সুখী হওয়াও যায়না। এরচেয়ে এই মুহুর্তে আপনার যা আছে তা নিয়ে সুখী হোন, বর্তমানকে উপভোগ করুন, এবং একইসাথে ভবিষ্যতের জন্যে জন্যে কাজ করে যান। সাফল্য আসলে একটা ভ্রমন, গন্তব্য নয়!

 

আপনার জীবনের একটা বড় অংশ যদি একটা বড় কিছুর জন্যে কাজ করে চলে যায় তাহলে সে কাজটি হয়ে যাওয়ার পর আপনার জীবনে আর তেমন কিছুই থাকবেনা। কোনো বড় কিছুর জন্যে কাজ করলেও নিজেকে সুখী হওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন না, কাজটি শেষ হওয়া পর্যন্ত সুখী হওয়ার জন্যে অপেক্ষা করে থাকবেন না, কাজ করতে করতেই সুখী হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

ধীরে ধীরে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন এবং এই ভ্রমন উপভোগ করুন।

অনুষ্টানটি উপভোগ করুন, শেষ দৃশ্যের জন্যে তাড়াহূড়ো করবেন না।

আমাদের জীবন হচ্ছে এখন (Present) - অতীত এবং ভবিষ্যত কোনোটাই না।

 

3. "একদিন আমার সময় আসবে আর আমি সুখী হবো" - এটা একটা ফালতু চিন্তা। আপনি কখনোই লটারি জিতবেন না। বাস্তববাদী হোন।

 

অনেকের ভাগ্য নিয়ে একটা অদ্ভুত ধারণা আছে - আল্লাহ/ঈশ্বর/ভগবান/দেবতা কেউ একদিন কোনোভাবে তাদের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিবেন। তারা ভাবেন তারা "সৌভাগ্য পাবার যোগ্য" এবং "একদিন সব এমনি এমনি ঠিক হয়ে যাবে" তাদের জন্যে। কেউ কেউ ভাবেন একদিন তারা লটারি জিতবেন কিংবা ভালো কিছু একটা ঘটবে তাদের জীবনে। অনেক মেয়ে ভাবে একদিন তার রাজপুত্র এসে তাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের দেশে!

 

এই ধরণের ভাবনা আসে পৃথিবী কীভাবে কাজ করে সেটা সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা থেকে। হতে পারে আমি ভুল, হয়তো প্রার্থনা বা আশা থেকে ভালো কিছু ঘটতে পারে, হয়তোবা মানুষ হিসেবে ভালো হয়ে থাকতে পারলে একসময় ভালো কিছু ঘটতে পারে। কিন্তু আশা, প্রার্থনা, এবং ভালো হওয়ার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করে চাওয়ার জিনিসটাকে অর্জন করার চেষ্টা করে যেতে দোষ কোথায়?

 

আমি ব্যক্তিগতভাবে জাদু, জ্বীন-পরী, জ্যোতিষবিদ্যা, কিংবা কোনো অদৃশ্য সত্ত্বায় বিশ্বাস করিনা । এগুলোর ব্যাপারে আমি সন্দিহান এবং আমি বিশ্বাস করি এগুলো সবকিছু অসম্ভব এবং হাস্যকর। এইসব অদৃশ্যে বিশ্বাস না করাটা আমার জীবনকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। একজন বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে পৃথিবীকে আমি খুব যুক্তির জায়গা হিসেবে দেখি যেখানে প্রকৃতির তৈরি বৈজ্ঞানিক নিয়ম এবং মানুষের তৈরি সামাজিক নিয়ম অনুসারে সবকিছু চলে। এবং পৃথিবীকে এভাবে দেখার কারণে আমি অনেক সহজভাবে সবকিছু দেখতে পারি।

 

এই বিশ্বজগত আপনাকে কিছু দেবার জন্যে পণ করে বসে নেই। আপনাকেই আপনার জীবন গুছিয়ে তোলার জন্যে কাজ করে যেতে হবে।

To be Continued.....

 

Shahbager Aabeg!

Posted by Elora Zaman on February 18, 2013 at 5:35 AM Comments comments (0)

শাহবাগের আবেগ- ইস্যুটি নিয়ে অন্তত ফেসবুকে কিছু লিখবোনা ভেবেছিলাম কারণ এইসব রাজনৈতিক ব্যাপার স্যাপার আমার ইনোসেন্ট ফেবু ফ্রেন্ডসরা ঠিক বুঝতে চাইবেননা। কিন্তু কয়েকদিনের উপুর্যপুরি মেসেজ আর ইমেইলের ধাক্কায় লিখতে বাধ্য হলাম।

নিচের লিখাটি সমমনা কয়েকজন ব্লগারএর মুক্ত আলোচনা- কথা হচ্ছিল বিভিন্ন ইস্যুতে, তারই একটা সারসংক্ষেপ|

সোবহান সাহেবের বাগিচা আজ স্লোগানে স্লোগানে মুখর, প্রজন্ম চত্তরের প্রত্যয় আজ মাতৃভূমি ছাড়িয়ে মেল্বৌর্নেও! ভালই লাগছে!

ভালোর সাথে 'ই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাললাগাকে খাটো করিনি কিন্তু কেবল মুচকি হাসিখানা ঝুলিয়ে রাখা বোঝাতে চেয়েছি, বৈরীভাবে না নিলেই হয়|

 

আজকাল খুব ভয়ে আছি, মুখ খুললেও দোষ আর না খুললেও দোষ! এই যেমন ধরুন দুদিন আগে এক ভদ্রমহিলা যিনি বেশ নামী দামী লোকেদের সাথে চলাচল করেন যদিও উনি আমার ফ্রেন্ড নন-ফেবুতে পিক দেখলাম, তিনি মেসেজ পাঠিয়েছেন এইভাবে যে,

"ব্লগেতো ছদ্মনামে লিখে খুব লম্ফঝম্প করতেন,টপ রেটেড হতেন, আর ফেবুতে পরে আছেন সুখী হবার উপায় নিয়ে জনগনকে উপদেশ আর উপদেশ কিন্তু শাহবাগ ইস্যুতে আপনার কোনো পোস্ট নেই, কোনো কমেন্ট নেই, জামাতিদের পেইজে সমানে লাইক দিয়ে যাচ্ছেন! এতে করে আবার প্রমানিত হয় যে আপনি জামাতি| ভন্ডামি ছেড়ে দিয়ে আমাদের সাথে হাত মেলান, আখেরে ভালো হবে| "

- এই ছোট্ট একটা টোকা আমার কলম বিরতীর শীতনিদ্রা ভঙ্গ করলো, আড়মোড়া দিয়ে মোবাইলটি হাতে নিলাম! আমার মত অখ্যাত এক বেদেনীর সাপোর্ট তাদের মত Big Shots দের প্রয়োজন ভেবে পুলকিত হলাম!

 

২০০৫-২০০৬ এর মাঝামাঝি সময়কার কথা, আমার ব্লগিং জীবনের শুরু, তুমুল উদ্যমে ব্লগিংচলছে, আস্তমেয়ে, সন্ধ্যিয়াবাতী, বজ্লুমহাজন, ফারজানা মাহবুবা, ত্রিভুজ, অথবা চতুর্ভুজ! কিংবা ব্লগিংচলত মুখফোর,চোর, শমশের, আইজুদ্দিন, ভাস্কর, ইমরান, হুসেইন,আর হাল জামানায় লাইম লাইটের নিচে আশা অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবতিক, কিংবা আসিফ মহিউদ্দিনদের সাথে,তারা আমার কো-ব্লগার|

এদের সবাইকে চিনি বিগত ৭-৮ বছর ধরে| একটা উদাহরণ দেই- কট্টরপন্থী আওয়ামী ঘরানার ব্লগার অমি রহমান পিয়াল যিনি শাহবাগের আন্দোলনের লিডিং স্টেজ এ আছেন তার কথা না তুললেই নয়, উনার একটা Adult Site আছে,"যৌবনজ্বালা"যা পরবর্তিতে যৌবনযাত্রা নামকরণ করা হয়েছে| ওখানে তার আইডি হলো আশ্রম মামা! যেখানে কেবল দেশী গার্লসদের হিডেন ক্যামেরার ভিডিও দেখানো হত, পরবর্তিতে উনার নাম পড়ে যায় চটি পিয়াল!

চিন্তা করে দেখুন আপনার বনের গোপন ভিডিও হয়ত ওই মর্ষকামী লোকেরা ওখানে প্রচার করেছে, যারা এখন শাহবাগে গলা ফাটিয়ে চিত্কার করছে!

 

আসিফ মহিউদ্দিন- ব্লগিংজীবন শুরু করেছে নাস্তিকতাকে প্রমোট করার জন্য, প্রিয় নবীকে নিয়ে এমন কোনো নোংরা কথা নেই যা তার নোংরা মুখে বেরোয়নি! আমার গ্রুপের দাঁত ভাঙ্গা জবাবে সমু ব্লগ থেকে লেজগুটিয়ে পালানো ছাড়া যখন কোনো উপায় ছিলনা তখন আমার নাম এমন গল্প ফান্দ্লো যে আমি নিজেই বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম যে আমার নাম জামাল খান আর বনানী বাজারে আমি সাইবার কাফে চালাই যেহেতু আমার আইডি ছিল Hide করা এবং তারা আমার ব্যক্তিগত পরিচয় জানতনা!

 

আমি দুঃখিত, ঐসব শুকরদের সাথে শাহবাগের সহাবস্থানকে আমি অস্বীকার করছি!

 

তবুও আমি পরিবর্তনের পক্ষে,শাহবাগের এই আন্দোলন থেকে হয়ত একটা ভালো কিছু হত কিন্তু এটাও একটা দলীয় সমাবেশে পরিবর্তিত হলো, হবে-সেটা জানতাম কারণ যাদের লিডিংএ হয়েছে তারা হিডেন এজেন্ডা না থাকলে কখনো ওই পথে পা বাড়াবেননা তা আমার বহু আগে থেকেই জানা. যারা জন্মের আগেই শত সহস্র বছর আগের ইতিহাস জানেন তাদেরকে আমি সমীহ করে চললেও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি!

“Pessimism of the intellect, optimism of the will.” । আশা দুই প্রকারের। এক ধরনের আশা ছেলেভুলানো ছড়ার মতো ক্লান্ত দিনশেষে পরাজয়ের অপরিসীম গ্লানি ভুলিয়ে আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখে, স্বান্তনার প্রলেপ দেয়। আর আরেক ধরণের আশা পরিবর্তনের প্রেরণা জোগায়, আমাদের স্বপ্ন দেখায় নতুন সম্ভাবনার!

 

যাকগে, এখন মূল ব্যপারে আসি:

 

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার বুঝি লাওয়ারিশ ল্যাম্পপোস্টে জ্বলতে থাকা ৬০ ওয়াটের একটা ফিলিপস বাতি যেটার কোন নেটেড কাভার নাই|

২৫০ অধিক আসন নিয়ে আওয়ামি লীগ বর্তমানে ক্ষমতায়, কেন তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দিচ্ছেনা ?কেন শেখ হাসিনা এমন সুবর্ন সুযোগ হেলায় ফেলে দিচ্ছেন ?

উনি যদি আজ জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দেন তাহলে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি হাঁফ ছেড়ে বাচবে,শুধু সেটাই নয় , প্রো লেফট এবং কট্টর আওয়ামি সমর্থকদের কাছে জামাত একটি বিষফোঁড়ার মতই যন্ত্রনা উপসর্গ|

যদি তিনি জামাতকে নিষিদ্ধ করেন ৮৬'র জাতীয় বেঈমানি , ৯৬'র তসবি-পটটি সহ নানারকম চিটিং বাটপাড়িতে ভরপুর শেখ হাসিনার প্রোফাইলে সম্ভবত এটাই হবে সবচেয়ে গৌরবজনক কাজ|

 

কারন আওয়ামি লীগ প্রায়ই বলে জামাত কি ইসলামের ইজারা নিয়েছে ?

তাহলে তাদের এই ইজারা নেয়া বন্ধ করে দিন|

অসংখ্য ধর্মভীরু সাধারন বাংলাদেশি মুসলিমদেরকে তারা যেভাবে দলে ভেড়ায় সেটা বন্ধ করে দিন|

কেন হাসিনা এই সুযোগ টা নিচ্ছেন না ?

কেন তিনি আওয়ামি মতাদর্শের অসংখ্য ভক্তের যন্ত্রনা উপশম করছেননা জামাত নামের বিষফোঁড়াটি কেটে ফেলে ?

 

কারন রাজনীতি হচ্ছে স্টান্টবাজির জায়গা|

স্টান্টবাজি থেকেই বলা হয় আওয়ামি লীগ স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি যদিও সাভার স্মৃতিসৌধ নির্মান করেছেন জিয়া , হাসান হাফিজুর রহমান জিয়ার নির্দেশেই স্বাধীনতার দলিলপত্র সঙ্কলন করেন!

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই একই ধরনের স্টান্টবাজি থেকেই বলা হয় জিয়া আওয়ামি লীগের পুনর্বাসক....

আপনি মানবেন সেটা ?

জানি মানবেন না...............

কেন মানবেন না ?

 

কারনটা বুঝতে বুঝতেও ঠিক বুঝে উঠতে না পারলে সেটা বুঝিয়ে দেই..........

 

শেখ মুজিব নিজের হাতে বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ শব্দটিকে বাকশালের বর্শা দিয়ে নিহত করেছেন!

শেখ মুজিব নিজেও নিহত হয়েছেন, তাতে কি বাংলাদেশ আওয়ামি লীগের মৃত্যু ঘটেছে ?

না , ঘটেনি,কারন বাংলাদেশ আওয়ামি লীগের ভোটারদের মৃত্যু ঘটেনি!একটা দলের ভোটারদের মৃত্যু যতক্ষন না ঘটে ততক্ষন দলটিরও মৃত্যু ঘটেনা|

শেখ হাসিনা নিজেও জানেন ৭০'র নির্বাচনেও আওয়ামি লীগ ১০ % ভোট মিস করেছে......

এই ভোট গুলো কাদের ?

জামাতপন্থিদের......

মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগেও যেমন তাদের ৭-৮% ভোট ছিল মুক্তিযুদ্ধের ঠিক অব্যবহিত পরেও ঠিক একই ভোট তাদের ছিল......

 

মুক্তিযুদ্ধের পরে জামাত মরে যায়নি , কারন তাদের ভোটাররা মরে যায়নি, ঠিক যেমনি ভাবে শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ মরে যায়নি , কারন তাদের ভোটাররা মরে যায়নি|

 

জামাতের ভোটাররা যতদিন থাকবে ততদিন জামাতও থাকবে,শেখ হাসিনা খুব ভাল করেই জানেন এসব...

জামাতকে নিষিদ্ধ করে দিলে তারা নতুন মার্কা , নতুন নাম নিয়ে আসবে, ঠিক তুরস্কের এ কে পার্টির মত, কোন কিছুই হের ফের হবেনা....

মাঝখান দিয়ে হাসিনার রাজনীতির স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ স্টান্টবাজিটা মার খাবে!

জামাত তো নেই , এবার উনি কাকে গালি দেবেন?

And বিএনপি উটকো ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবে

জামাত নামের সিন্দাবাদের ধুর্ত ধাড়ী বুড়োকে আর কাঁধে নিতে হবেনা|

 

তারচেয়েও বড় ঝুকিটা হল বাংলাদেশের প্রো রাইট ভোট তখন একচেটিয়া বিএনপি উপভোগ করবে!যেইসব সাধারন ধার্মিক মুসলমান বাংলাদেশিরা আওয়ামি লীগ থেকে ১০০ হাত দূরে গা বাঁচিয়ে চলেন তারা সবাই একজোট হয়ে বাই ডিফল্ট বিএনপি ভোটার হয়ে যাবে|

কারন তাদের ওয়াজ মাহফিলের মিষ্টি সুর শুনিয়ে দলে ভেড়ানোর সেয়ানা বাশিওয়ালা জামাত তখন নেই,ঠিক যেমনি ভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১০০ তে ১০০ % প্রো লেফট ভোট এর কেক আওয়ামি লীগ একাই গেলে...

আর আম্বিয়া , ইনু , খালেকুজ্জামানদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়.........

 

জামাতকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে প্রো রাইট ভোট ব্যাংকের কিছুটা জামাতের কাছে থাকবে....

ডিভাইড অ্যান্ড রুল থিওরির এত মজা হাসিনা মিস করতে চান না !

 

“আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে । কারন রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে..........”

 

কথাগুলো খালেদা জিয়া বলেছেন ভেবে কিছুক্ষন খিস্তি খেউর গালাগালি করে মনের সুখ মিটিয়ে নিন

,তারপর জানুন বাকিটাঃ

 

...............তবে নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে তাদের রাজনীতি করতে হবে। কেউ নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার বিরুদ্ধে কিছু করতে চাইলে তা করতে পারবেনা। ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার তা নেবে নির্বাচন কমিশন । জামায়াত ইসলামীকে নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে রাজনীতি করতে হবে.......

 

– গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ,২২ শে জুলাই , ২০১০ তারিখে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত আওয়ামি লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক

 

– কালের কণ্ঠ / ২৩ শে জুলাই , ২০১০: শেখ হাসিনার বক্তব্য জামায়াত নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে

 

-প্রথম আলো / ২৩ শে জুলাই , ২০১০

:তাহলে জামাতকে পুনর্বাসনের প্রশ্নটা আসে কিভাবে ?

 

ঠিক যেভাবে বলে মজা পান জিয়া জামাতকে পুনর্বাসন করেছেন ঠিক সেভাবে একই সিংগেল স্ট্যান্ডার্ডে এটা কি বলেন জিয়া আওয়ামি লীগকেও পুনর্বাসন করেছেন ?

 

কেন বলেন না ?

দয়া করে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের ত্যানা প্যাচাবেননা......

 

দালাল আইনের ব্যাপারে জিয়াকে দোষী করতে চান ?

হ্যা , করতে পারেন.........

তবে জিয়াকে দোষী করতে চাইলে যত বড় কথা বলতে হয় তত বড় মুখ আর কাজ আপনার আছে তো ?

 

কথাটা বললাম এই কারনে মিডল ইস্টে আজ যে ৭০০০০০০ শ্রমিক ঘাম ঝরিয়ে এদেশটাকে বাঁচিয়ে রাখছে ওদের সেই সুযোগটা করে দিয়েছেন জিয়া.........

 

পাল্লার একদিকে দালাল আইনের ছাড় , অন্যদিকে লাভের বাটখারা, বেশ ওজনদার বাটখারা , ৭০ লাখ শ্রমিকের চাকরি , ৩০ টা দেশের স্বীকৃতি......

মাপার সময় বাটখারাটা নিতে ভুলবেননা দয়া করে

,কারন এই আপনারাই একপাল্লায় যখন ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে বসানো হয় তখন অন্য পাল্লায় পাকিস্তান আটক বাঙালিদের বাটখারাটা বসিয়ে দেন এবং এটাও ভুলে যান যে শাহ আজিজকে সংগে নিয়েই বংগবন্ধু শেখ মুজিব হাসিমুখে ৭৪'র লাহোর ও আই সি সম্মেলনে গিয়েছিলেন!

 

স্বাধীনতার পর যে বাংলাদেশ শব্দটি বিশ্ব সমাজে অনাদরে উপেক্ষায় ছিল তার অবসান ঘটিয়েছিলেন জিয়া......আয়নায় তাকিয়ে দেখুন মধ্যপ্রাচ্যের সেই ঘামসিক্ত টাকায় আপনার পেটে অন্ন গলধকরন হয় কিনা ?

 

যদি হয়ে থাকে তো সে অন্ন আর গিলবেন্না.......

মধ্যপ্রাচ্যের ৭০ লাখ শ্রমিকের দেশেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আপনিই করবেন,আপনারই করা উচিত , বড় কথাটা যেহেতু আপনিই বলেন...কাজে বড় হন, বড় কথা বলার মত দেশ উদ্ধারক বড় কৃতিত্ব জাহির করুন|

 

এই দেশটা হিপোক্রেটে ভর্তি!

এখানে অনেকেই গায়ে টি শার্ট চড়িয়ে চে গুয়েভারা বনে যায়! বিপ্লবি ভাবের হাওয়ায় ঝাকড়া চুলের বাবরি দুলিয়ে বাসায় ফিরে গেটের সামনে ১ টাকা নিয়ে রিকশাওয়ালাকে চোখ রাঙায়.....

কাঁধে গাট্টি বোচকা চাপিয়ে পুজিতন্ত্রের বিশ্বমধুভান্ডার আমেরিকায় এসে মধু চেটে খায় আর পুজিতন্ত্রের ডলার ভাঙিয়ে কক্স , ভেরাইজোন ,এটিঅ্যান্ডটির নেটে বসে আমেরিকা টু বাংলাদেশ সমাজতন্ত্রের সাইবার মিসাইল লন্চ্ঞ করে...........ঠিসিয়া !

 

শাহবাগ আন্দোলনকে আওয়ামী লীগ ম্যানিপুলেট করবে এটা যারা শুরুর দিন থেকে আওয়ামী লীগ - ছাত্রলীগ- আওয়ামী বুদ্ধিজীবিদের গ্যাদারিং দেখেও না বোঝার ভান করবে তাদেরকে আমি ভন্ড বলি। আওয়ামী লীগ কবরস্থানে রাজনীতি করে , আর শাহবাগে করবে না ?

 

আর বুদ্ধিপ্রতিবন্দীদের সাথে বাতচিতে আমি আগ্রহী নই|

 

পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।। অন্যের আদর্শকে শ্রদ্ধা করেও নিজের আদর্শ প্রচার করা যায়, নিজের আদর্শ পালন করা যায়।।

 

নাস্তিকদের নিয়ে কখনোই আমার চুলকানী ছিলনা।। যার মন চেয়েছে সে নাস্তিক হয়েছে।। আমার কিছু যায় আসেনা।।একজন মানুষকে আমি আস্তিক- নাস্তিক দাড়িপাল্লায় বিচার করার পক্ষপাতি নয়।।সমাজের উন্নতির কাজে, দেশের কাজে যে কারো সাথে কাঁধে কাঁধ মিলাতে আমার আপত্তি নেয়।। কিন্তু সমস্যা তখনই তৈরী হয় যখন সে আমার বিশ্বাসকে, আদর্শকে গালিগালাজ করবে।।

যে ব্লগার খুন হয়েছে একে অনেক আগে থেকেই চিনতাম,খুবই নোংরা মানসিকতার এক ব্লগার হিসেবে।। ইসলাম, আল্লাহ , রসুল(স;) কে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাজে মন্তব্য করেছে।। তার নোংরামী সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল অনেকবার।।

আমি জানিনা কে বা কারা তাকে খুন করেছে।। নিজের গ্রুপের লোকেরাও হতে পারে, উগ্রপন্থী কেও হতে পারে।। এক উগ্রপন্থা সবসময় বিপরীত উগ্রপন্থার জন্ম দেয়।। এই নোংরা ব্লগার একজন উগ্রপন্থী ছিল।। কাজেই সে যদি কোন বিপরীত উগ্রপন্থীর হাতে খুন হয় আমি অবাক হবনা।।

 

আর একটা কথা,

" তাদেরই একজন আজ জবাই হয়েছে যারা শাহবাগের মঞ্ছে উঠে হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে শপথ করায় " একটা দুইটা শিবির ধর- সকাল বিকাল জবাই কর।"

তাদেরই একজন আজ লাশ হয়েছে যাদের কাছে শিবিরের ছেলেদের অগণিত লাশকে যাস্ট উইকেট হিসেবে মনে হয়।। মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত শিবিরের ছেলেদের লাশ দেখিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করে এরাই লেখে " আজ চট্টগ্রামে চারটা উইকেট পড়ছে, আজ কক্সবাজারে দুইটা উইকেট পড়ছে"!

বলতে বাধ্য হচ্ছি আজ তাদের নিজেদেরই একটা উইকেট পড়ে গেল, দঃখিত নূন্যতম সহানূভুতি দেখাতে পারলামনা বলে!

 

শিবিরের আদর্শ আমার কাছে ভুল মনে হয়, তাদের সমালোচনা আমরাও করি কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ওদেরকে ধরে ধরে জবাই করবো।। আজ সারা বাংলাদেশে জামাত-শিবিরের প্রায় তিন কোটির উপর কর্মী-সমর্থক আছে।। এই তিন কোটি মানুষকে জবাই করে আপনি দেশের উন্নতি করার সপ্ন দেখতে পারেন, কিন্তু ওইটা Day Dream! তাদেরকে তাদের ভুল বুঝিয়ে সঠিক পথে আনা যেতে পারে কিনা জানিনা কিন্তু যারা জবাই এর ঘোষণা দেয় তাদের সাথে পাকিস্তানী হানাদার আর ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের কি পার্থক্য থাকলো?

 

সর্বশেষ একটা কথা বলতে চাই- " হুমায়ুন আহমেদও একজন লেখক, হুমায়ুন আজাদও একজন লেখক, হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুতে চোখে জল আসে ক