Bangladeshi Broadsheet

One stop web portal for Bangladeshies in Australia

Next Text Post New Entry

Rain

Posted by Rana on February 26, 2013 at 3:15 AM Comments comments (0)

বৃষ্টি

 

তোমাকে কে বলল আমি গতকাল নীলক্ষেত গিয়েছিলাম?সাগর প্রশ্ন করে,

কেউ বলেনি, আমিই দেখেছি, তোমার গায়ে আকাশীরঙের শার্টটা পরা ছিল, আমি কেবল কলেজ থেকে বের হলাম, রাস্তাটা পাড় হব, আর দেখিতুমি ওই গোলচক্করের ওপাশে দাঁড়িয়ে কি একটা বই দেখছ, এতো ডাকলাম নবাব সাহেব ফিরেওচাইলেন না, হুহ! নীলা গোমড়া মুখ করে বলল, কি দেখছিলে এতো মনোযোগ দিয়ে? আবার প্রশ্ননীলার,

গত কয়েক মাস যাবত তাদের প্রায় প্রতি শনিবারেদেখা হয় ধানমণ্ডির এই লেকের ধারে, দুজনে বসে একটু কিছুক্ষন কথা বলা, আর তারপর যেযার বাড়িতে, কোন কারন ছাড়াই দেখা হয় এখন, আসলে ভাল লাগে দুজনেরই, পাশাপাশি বসে এইযে একটু কথা, বেশিরভাগ কথাই কোন মানে রাখেনা, কিন্তু কেন যেন প্রতিটা কথাই যখন বলাহয় তখন একজন গভীর আবেগ নিয়ে বলে আর একজন পরম মমতায় শুনে যায়, যেমন, হঠাৎ নীলাপ্রশ্ন করে বসলো “ কাল রাতে কি খেয়েছ?”

এইত ভাত খেলাম, ফুলকপি, আলু, আর শোল মাছ,”তুমি ? সাগরের উত্তর, এভাবেই প্রশ্ন পর্ব এগিয়ে যায় আর উত্তরও দেয়া হয় সাথে সাথেই,দুজনেই মনের ভেতরে কি একটা চাপা ব্যাথার মত অনুভব করে যখন দেখা হয়, কেমন একটা ঘোরলেগে আছে যেন, গত কয়েক মাস প্রায় একি রকম গেল, প্রথম দেখা হয় একটা অনুষ্ঠানে, সাগরবন্ধুদের সাথে গিয়েছিল, বিয়ের অনুষ্ঠান, এর ভেতরেই হঠাৎ যেন চোখ একটা বিশেষ মুখেরউপর পড়ে আর ফিরে আসতে চায়নি, বার বার অনুসরন করে গেছে, আর মেয়ে দের প্রকৃতিদত্তভাবে পাওয়া অনুভুতি নীলাকে জানিয়ে দিয়েছে কেউ একজন তাঁকে দেখছে, কেউ একজনমোহাবিষ্ট! এবং খুঁজে পেতেও সময় লাগলোনা, বিয়ের মত লম্বা অনুষ্ঠানের অনেক সুবিধেআছে, এধরনের ঘটনা শুধু লুকিয়ে দেখার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনা, কথাও হয়ে যায়, প্রথমশুরু হয় সে আবহমান কালের নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট টিটকারি ছেলে মহল থেকে তরুণী মহলে ছুড়েদেয়া তারপর সে টিটকারি দুই গুন করে ফেরত নেয়া, আর দুপক্ষেরি মনের ইচ্ছে মত ধীরেধীরে অন্য কথায় যাওয়া, কই থাকেন কি করেন এইসব , ব্যাস পরবর্তী দেখার দিনক্ষণ তখনঠিক না হলেও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়ে যায়, কোথায় পড়ছে জানার পরেতো তিন চারদিন চক্করকাঁটা, আর দেখা হয়ে যাওয়ার পরে,

“ আর আপনি, কেমন আছেন? ওহো আপনি তো এখানেইপড়েন, সে দিন বলেছিলেন,”

আর মেয়েটি সব বুঝেও না বোঝার ভান করে বলে ‘আপনিএদিকে?’ আর ছেলেটির উত্তর ‘ না এইত বই কিনতে এসেছিলাম , কিন্তু পেলাম না,’

মেয়েটি মনে মনে বলে ‘হু ন্যাকা’ কিন্তু ভালওলাগে কেন যেন, এতো শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে চলে আসছে, ভাল লাগবেনা কেন! তো শুরুটাএরকম,  

এর পর থেকেই তাদের সময় যেন শনিবারে আটকেগেছে, দুজনেই ছটফট করে কবে শনিবার আসবে, আর শনিবার আসে যায়, সময় বয়ে যায়, কিন্তুআজ সময় থমকে দাঁড়াবে মনে হচ্ছে, দুজন এসে বসার একটু পরেই আকাশের দেবতা ভ্রুকুটিকরলেন, ধমক দেয়া শুরু করলেন, ধমক খেয়ে মেঘের দল যে কখন কাঁদতে শুরু করে দেবে,দুজনেই দুজনের দিকে তাকাল তারা, সারা সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দেখা আর একিশুরু হল,কেউ কিছু বলছে না কিন্তু মনে মনে প্রার্থনা করে যাচ্ছে , প্লিজ বৃষ্টিনামিস না, আর একটু পরে নাম না, কিন্তু আকাশ তো সর্বজনীন, এই দুটি মানুষের জন্য তোসার্বজনীন সিদ্ধান্ত বদলে দেয়া যায়না, বৃষ্টি নামল, ঝমঝমিয়ে, চারিদিক বাতাসের সাথেবৃষ্টির বাঘবন্দি খেলা শুরু হয়ে গেল, একবার এপাশ থেকে তো একবার ওপাশ থেকে,

চল তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আসি, সাগর বলে উঠল,একদম ভিজে গেছ দেখি এরি মধ্যে, “ এই ভাই যাবেন ?” রিকশা ওয়ালা একজন কে জিজ্ঞেস করলসে, “ যাইবেন কই?”

“সাতরাস্তার মোড়”

ষাইট টাকা !

কোন প্রশ্ন, দরদাম কিছু নাকরে উঠে পড়ল তারারিকশাতে, হুড তুলে দেয়ার পরে পলিথিন চাইতেই রিকশাওয়ালার অনেকটা দার্শনিক উত্তর “মেঘের কতা টের পাইনাই, পরদাও আনি নাই”

সাগর অনেক কষ্টে রাগ সামলাচ্ছিল, এই সময় নীলাখিল খিল করে হেসে উঠল, তার দিকে ফিরে তাকাতেই সাগর কেমন জমে গেল, কেমন রহস্যময়একটা মুখ, কপালের উপর লেপটে থাকা ভেজা চুল, চোখের পাপড়িতে  জমেথাকা শিশির বিন্দুর মত জল, নাকের উপরও জমেআছে কিছু, একটা চূর্ণকুন্তল কানের একপাশে ঝুলে আছে লেপটে যায়নি , জল তাঁকে ছুঁতেপারেনি, আর এতো কাছে! আর একটু কাছে গেলেই নিঃশ্বাসের ছোঁয়া পাওয়া যাবে, চোখের ভাষাদুর্বোধ্য কিন্তু পড়তে বাধ্য করছে, আবার বৃষ্টির ঝাপটা! সাগর মুখ ফিরিয়ে নিল, একটাহাত দিয়ে হুডের সাম্নের দিকটা ধরে থাকল যেন বৃষ্টির ঝাপটা নীলার গায়ে না লাগে, আরনীলা? সে কেমন শরীরে রিমঝিম একটা ভাব নিয়ে সাগরের তাকান আবার চোখ সরিয়ে নেয়া দেখল,এখনও তাকিয়ে আছে তার দিকে, এই মানুষটা কি তার? এর গায়ের গন্ধতো অপরিচিত লাগছেনা,কেমন চেনা লাগছে, এই যে হাত দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছে দেখতে কি যে ভাল লাগছে,নির্ভর করতে একটুও লজ্জা লাগছেনা, এটা তার মানুষ, একে ছেড়ে সে থাকতে পারবেনা,  আজ সারা পৃথিবী একদিকে সরে গেলেও সে সাগরের পাশেথাকবে,

কিছু কিছু মুহূর্তই থাকে এমন, তখন সব ভেসেযায়, লাজ, লজ্জা, ভয়, দায়িত্ববোধ, সব ভেসে যায়, আর এই ভেসে যাওয়াতে কোন ক্ষতি নেই,অন্তত ওই সময়টাতে, এই দুই তরুন তরুণী হয়ত কালই দুই দিকে ভেসে যেতে পারে, কিন্তু আজএই মুহূর্তে যাওয়ার কোন উপায় নেই, কালই হয়ত অন্য কোন মানুষের গায়ের গন্ধ বড় আপনলাগতে পারে, কিন্তু আজ নয়, কাল হয়ত এই চোখ আর দুর্বোধ্য মনে হবেনা, আর পরতেও ইচ্ছেকরবেনা, কিন্তু আজ ওই চোখে ডুবে যাওয়ার ইচ্ছে কেউ রুখতে পারবেনা,

পরবর্তী পনের মিনিট ওরা বেঁচে রইল, দুজনদুজনকে জানল অন্য ভাবে, কেউ দেখেনি, শুধুমাত্র আকাশের দেবতা অবাক! করছে কি ওরা!