Bangladeshi Broadsheet

One stop web portal for Bangladeshies in Australia

Next Text Post New Entry

Kobita Guccho

Posted by Wazih Razib on May 10, 2012 at 8:30 AM

ক্যামোফ্লাজ

 

কোন এক কাঠিপোকার মত

গাছের ডালেই ক্যামোফ্লাজ।

 

ইলিশের ভুল স্বাদ,

বৈশাখীর মেকী পান্তাভাত,

ব্যর্থ চিঠির মত

ফুসফুস কালো করে

ভর্তি করে বাজে কাগজের ঝুড়ি

অহেতুক দীর্ঘশ্বাসে।

 

ফেরা তো হয়না কোনখানেই।

 

সূর্যগ্রহণ

 পেঁজা তুষার

জ্যোৎস্না ফোঁটা

হৃদয় মাঠের

দূর্বা দোলানো

হুইস্কি বাতাসে-

বনের গন্ধে

মনের দহন।

রুপোলি বালির

চরায় আটকে

ফেরারি নৌকো

রাখলো জামিন

তোমার উঠোন।

 

ছেঁড়া আকাশের

ফুটো দিয়ে দেখা

মাথা ঝিম ঝিম

ঝাপসা অসীম

সূর্যগ্রহণ।

 



হাওয়া জল রঙ

তুলির আঁচর কাটো সুনিপুন মাপজোখে,

সকাল দুপুর সাঁঝ থেকে-

রঙ নিয়ে আঁচলে বসন্ত আঁকো।

তোমার কপোলে জমে থাকা সময়ের

আঠালো ধুলিকনা, ঢেকে দিয়ে লজ্জা আঁকো,

ঠোঁটে আঁকো উগ্র গোলাপ।

যেমন মানুষ আঁকে দৃষ্টির সীমানায় নকল ঈশ্বর,

তুমিও মুর্তি গড়ে রঙ দাও তাতে।

সে রঙ যুদ্ধে যায়,

তুমি জিতবার অভিনয়ে কত রঙ মেখে

দু’চোখের দাস হয়ে থাক।

অথচ,

তোমার শরীর থেকে রঙ তুলে নিলে তুমি জল,

তোমার কাঁচের ঘর গুঁড়ো গুঁড়ো হলে তুমি হাওয়া।

 

 



সাক্ষী

ঘুলঘুলি দিয়ে আলোর কয়েকটা রেখা এসে পড়লো তার গায়ে।

রকিং চেয়ারটাই দেখেছিলো প্রথম, তার চাপা আর্তচিৎকার শুনে

আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠলো সিগারেটকেস টা।

এসময় তাদের ঘুম এম্নিতেই ভাঙে

হাঁই তুলে শুধোলো, “ কী হয়েছে”?

চেয়ারটা চোখ তুলে একরাশ জড় ভয় নিয়ে

ইশারায় দেখালো সিলিং ফ্যানএ ঝুলন্ত দেহখানা।

ওইদিকে ফ্যান বেচারারও ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা,

গোঙ্গাচ্ছে “বাঁচাও, বাঁচাও, কে আছ, এটাকে নামাও আমার থেকে”।

তার শেষ স্পর্শ পাওয়া টিপয় টা পড়েছিলো অচেতন হয়ে

এতক্ষনে জ্ঞ্যান ফিরল তার,

বলল “রাতের অন্ধকারে কখন যে সে আমায় বিছানায় নিয়ে এলো

টেরও পাইনি, তার পর এক প্রচন্ড ধাক্কায় উলটে যাই

সংজ্ঞ্যা হারিয়ে ফেলি বিষম যন্ত্রনায়

তার পর আর কিছু মনে নেই”।

 

দিনের আলো আস্তে আস্তে ফুটতে শুরু করেছে ঘরের ভেতর,

একে একে ভাংছে সবার ঘুম।

কাবার্ডের দরজা খোলা ছিলো,

জামাকাপড় গুলো চোখ খুলতেই দেখতে পেলো বীভৎস দৃশ্য।

আয়নাটার বুকে বেজে উঠলো সহস্র সেতার,

আর সেতারটা নির্বাক হয়ে মনে করার চেষ্টা করছিলো

‘শেষবার কবে হাত পরেছিলো তার তারে’।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্ত ঘর ভরে উঠলো একটা চাপা কোলাহলে।

 

দুটো শার্ট ছিলো খুব প্রিয়,

তারা ডুকড়ে বল্লো “এখনো তার ঘামের গন্ধ আমাদের গায়”

প্যান্ট আর নোংরা জাঙ্গিয়াটার পুঁতিগন্ধময় দীর্ঘশ্বাস

উপেক্ষা করে হঠাৎ এক দীর্ঘ নীরবতা।

জানালাটা খোলা হয়নি বহুদিন,

শেষদিকে দরজাটাও কদাচিৎ খোলা হতো

বদ্ধ ঘরের হাওয়া তার অসাড়তা কাটিয়ে

রান্নাঘরের দিকে চলল খবরটা দিতে।

 

এ্যালার্ম ঘড়িটা তখনো ফুঁপিয়ে কাঁদছে টিক টিক করে।

হঠাৎ রান্নাঘর থেকে ভেসে এলো চায়ের কাপের বুকভাঙ্গা চিৎকার,

ঝনঝন বুক চাপড়িয়ে বাসনকোসন গুলো মর্সিয়া করে ওঠে

“হায় হায়! আমাদের কীহবে এখন?”

শোকে আলুথালু বিছানার চাদরটা

তোষক জড়িয়ে ধরে কেঁপে কেঁপে কাঁদে

হ্যাঙ্গারগুলো ফেল ফেল করে তাকিয়ে দেখে

পোষাক নয়, আপাদমস্তক একটা ঝুলন্ত মানুষ।

 

দুই দিন ধরে তারা তাই দেখে গেলো

জড়তার জগদ্দল বুকে চেপে।

এক সময় বাতাস ভাবলো “অনেক তো হলো

এবার বাইরে খবরটা দেয়া যাক”।

 

 

সবাইকে চুপ করিয়ে দিয়ে পুলিশ এলো তার পর।

বেচারা সিলিংফ্যানটাকে উদ্ধার করে নামিয়ে আনলো নিথর দেহটা,

ভাঙ্গা দরজায় সীল মারা হলো।

গোয়েন্দারা খুঁজে বেড়ালো কত আলামত,

প্রশ্ন করার মত কাউকেই পেলোনা তারা।

যারা ছিলো, তাদের ভাষা ওরা কেউ বোঝেনা।

 

এখনও মাঝে মাঝে, জামা কাপড় আর আসবাবগুলোর

একলা মানুষটার কথা খুব মনে পড়ে

‘বুড়ি চাঁদ বেনোজলে ভেসে’ গেলে পাতা ছেড়া পুরোনো ম্যাগাযিন

উদাত্ত কন্ঠে বাকীদের পড়ে শোনায় “আট বছর আগের একদিন”।

 

 




পান্তাবুড়ি আর তার ছেলেরা


 

রাজার বিচার না পেয়ে পান্তা বুড়ি

নিজেই ব্যাবস্থা নিল।

শায়েস্তা হল বাইরের চোর,

 

 

তবুও তার পান্তায় রোজ পরে টান।

চোর নেই, ঘর ভরা মাতৃভক্ত সন্তানেরা

গলা ফাটিয়ে বলে, ‘মাগো, তোকে কত ভালবাসি,

ওই দেখ, টিভি’র পর্দা জুড়ে তোর কত ছবি!

পান্তা বুড়ির ঘর জুড়ে সবল সন্তান,

সে জন্য গোবর নির্বাসিত হলো দুর্গন্ধের দায়ে।

শিং মাছ উদরস্থ হল

আর মাথায় ফেট্টি বেঁধে, লাঠি নিয়ে হল কত খেলা।

সন্তানের বন্ধুরা আসে,

ওরাও মা মা ডাকে আজকাল।

দেখলেই কদমবুসি, অবনত পরম শ্রদ্ধায়-

ওরা লাঠি নিয়ে পাহারায় বসে।

তবুও পান্তার হাড়ি রোজ রাতে ধর্ষিতা হয়ে

একবুক শুন্যতা নিয়ে ফেল ফেল চেয়ে থাকে।

 

ভুড়িভোজ তৃপ্তি নিয়ে তার পেশীবহুল ছেলেরা

বেশ্যার মত অকারণে হাসে,

আর আবেগের ফুল ছড়ায়

অনাহারে মৃত মা’র লাশে।

 

 



চাঁদের ফাঁদ

চাঁদ মামা ফাঁদ পেতে বসে ছিল আকাশে,

ধার করা জামা পড়ে মুখ করে ফ্যাকাসে।

আকাশেতে একা থাকে নেই পাড়া পড়শী,

সময় কাটাতে ফেলে জোছনার বড়শী।

 

মুখপোড়া এক ছোঁড়া বুঝলনা চালাকি,

ভেবেছিলো আকাশেতে এ রুপোর থালা কী?

আঁধারের ওই পারে স্বর্গের বাতি সে?

পৃথিবীর ছেলে আর সূর্যের নাতি সে?

ক্ষিদে চোখে চাঁদখানা ঘিয়ে ভাজা পরোটা,

তিন কাল এক হয়ে রাত বাজে বারোটা।

তার ঠোঁটে হাসি ফোটে ছন্দটা মিলল,

চাঁদ মামা মনে ভাবে “ওই টোপ গিললো”।

 

সব ভুলে বসে খুলে কবিতার খাতা সে

সংসার ভেসে যায় মিঠে হিম বাতাসে

একাকী চাঁদের পথে একা এক যাত্রী

চোখ জুড়ে কল্পনা পেট জুড়ে রাত্রি।



 

 

কল্পনার একেক টা দিন


 

একেকটা দিন থাকে, জলের উপর ছবি আঁকে।

তার আকাশের রঙ, হাওয়ার গন্ধ

এতটা জীবন্ত হয়,

যে মনে হয় যে সে কখনো সত্য নয়।

এ যেন মেঘ দেখে কল্পনায় নানা মূর্তি গড়া।

একেকটা দিন থাকে, মহাকাল থেকে ঝরা

অশ্রু-জমাট মুক্তো।

 

একেকটা দিন থাকে, ঘন পাতার আড়ালে ডাকে পাখী,

না দেখেই ভালোবাসা হয়, তার পর শুন্য একাকী।

সহস্র রাত যায় নিজেকে উড়িয়ে নিতে,

সে গানের হাল্কা ডানায়।

অজস্র স্মৃতি জঞ্জাল ভার নিয়ে বসে প্রতীক্ষায়।

 

একেকটা দিন থাকে,

ইলিশ মাছের স্বাদ জিভে অক্ষয় ছবি আঁকে।

রুক্ষ চুলে কারো ব্যাখ্যাতীত আবেগের ছোঁয়া

এক অমর সিনেমা হয়ে যায়।

অচেনা গন্ধ কোন, বুকের গহীন কোণে,

অজানা ফুলের গাছ বুনে ফের দৌড়ে পালায়।

 

সত্যি, এমন দিন কী আছে?

নাকি সেও কবিতা লেখার অজুহাত।

যদি সেই তোমাকে পেতাম ফের কাছে,

হয়ত সত্যি সত্যি সুবাস ছড়াত

স্বপ্নের সেই পারিজাত।

 


চুমু


এক গভীর আলোহীন গুহায় সন্যাস নেয়া কোন বেশ্যার সাথে

দাবা খেলে পথভ্রষ্ট অবতার। চির বন্দিত্বের সেই জমাট নিঃশ্বাস

শরীরের কক্ষপথে যেন মহাজাগতিক ধুলো ।

স্থিরতার সেই বিষ কৌমার্য অথবা ছিনাল রাজনীতি,

পতিত জমি জুড়ে জারজ গুল্মলতার ছায়া বিভীষিকা

ওদের মুমূর্ষু করে।

যারা মেঘ দেখে ভয় পায় তারা আশ্রয় নিক কোন গম্বুজের নিচে,

আমি অন্ধকার আকাশের কালো গহ্বরে ঈশ্বরের লকলকে জিভে চুমু খাব।।

 



 


Categories: Kobitamoi somoi

Post a Comment

Oops!

Oops, you forgot something.

Oops!

The words you entered did not match the given text. Please try again.

Already a member? Sign In

1 Comment

Reply Mohammad Hassan
8:46 PM on May 10, 2012 
বাংলাদেশি ব্রডশীটে রাজিব ভাই হলেন প্রথম লেখক। উনাকে কি ভাবে আপ্যায়ন করি তাই ভাবছি। দারুন কাজ। অনেক ধন্যবাদ। রণ।