Bangladeshi Broadsheet

One stop web portal for Bangladeshies in Australia

হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার উপায়

অসহ্য গরমে জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তবুও দিনমজুরদের এতটুকু বসে থাকার সুযোগ নেই। তীব্র গরমের মধ্যেও জরুরি প্রয়োজনে অনেককেই পরিশ্রমের কাজ করতে হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের ভেতরেও এখন অনেক গরম। যে গৃহবধূ বা মা চুলায় রান্না বসিয়েছেন, তিনিও গরমে অতিষ্ঠ। আবহাওয়ায় তাপমাত্রা যত বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে শরীরের তাপমাত্রাও। সাধারণভাবে শরীরের এ তাপ ত্বক ও ঘামের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়। ফলে দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় থাকে। কিন্তু যখনই অত্যধিক গরম পড়ে, তখন শরীর এই তাপ নির্গমন প্রক্রিয়াটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে না। তখনি সৃষ্টি হয় হিটস্ট্রোকের মতো জটিল সমস্যা। প্রচণ্ড গরমে উত্তপ্ত শরীর খুব দুর্বল হয়। বমির উদ্রেক, মাথাব্যথা, শরীর ঝিমঝিম করা, সমগ্র শরীর কষে আসা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণের প্রকাশকেই হিটস্ট্রোক বলা হয়।

সমস্যাগুলো হঠাৎ করেই দেখা যায়। এটি একটি ‘অতি জরুরি অবস্থা’। দেখা দেয় মারাত্মক পানিশূন্যতা। খেলোয়াড় বা রোদে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন (ভ্যান-রিকশা-ঠেলাগাড়ির চালক, হকার, কৃষক আগুনের কাছে কাজ করেন এমন যে কেউ), তারাই বেশি আক্রান্ত হন। শিশুরা রোদে দৌড়ঝাঁপ করার সময়ও আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত যাদের হƒদ্রোগ, ফুসফুসের রোগ, কিডনির সমস্যা, ঘর্মগ্রন্থির কার্যকারিতায় সমস্যা আছে, তাদের মধ্যে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া খেলোয়াড়, স্থূল স্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তি এবং যারা রোদের মধ্যে অধিক সময় শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, তারাও এই সমস্যার শিকার হয়ে থাকেন।

হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ছায়াযুক্ত, ঠাণ্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে। পুরো শরীরে ভেজা তোয়ালে বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীর বগলে, ঘাড়ের নিচে ও কুঁচকিতে বরফের টুকরা দিতে পারলে ভালো। অবস্থার উন্নতি না হলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। রোগীকে অবশ্যই কোনও ধরনের জ্বরের ওষুধ (প্যারাসিটামল) দেওয়া যাবে না।

হিটস্ট্রোক এসময়ের একটি ‘জরুরি পরিস্থিতি’ যেহেতু মানুষটির দেহে তাপ আটকে গিয়ে একপর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েন, তাই রোগী মারা যেতে পারেন। এমনকি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হতে পারেন। তাই গরমে সাবধান হতে হবে হিটস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়। একটানা রোদে কাজ করা যাবে না। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সব রকম ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত, বেলের শরবত পান করা উপকারী। এসব ফলমূলের ভিটামিন ও খনিজ মস্তিষ্কের তাপনিয়ন্ত্রক কেন্দ্রকে উদ্দীপিত রেখে আপনাকে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাবে।

এই গরমে খাদ্য তালিকায় সহজপাচ্য খাবার যেমনÑ ভাত, টাটকা শাকসবজি, ভর্তা, ছোট মাছ, ডাল ইত্যাদি রাখা উচিত। কোনওভাবেই তৈলাক্ত খাবার, অতিরিক্ত মশলা, ভাজাপোড়া খাওয়া ঠিক হবে না। আর বাইরে বের হওয়ার সময় সুতির ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নিন। সঙ্গে রাখুন ছাতা, সানগ্লাস আর একটি ঠাণ্ডা পানির বোতল।

(Collected from facebook by Md.Moshiur Rahman) 

মেদ কমাতে চান, পর্যাপ্ত ঘুমান!

শুধু খাদ্যসংযমী হলেই মেদ কমে না, সেক্ষেত্রে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমও জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় একথাই বলা হয়েছে। নতুন এ গবেষণাটি ‘অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন’ এ প্রকাশিত হয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণে ঘুমের ভূমিকা রয়েছে বলে এ গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই যেসব মানুষ ওজন কমানোর পরিকল্পনা করছেন তাদের রাতের ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত ওজনের ১০ জন পুরুষ ও নারীকে নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার প্রয়োজনে এদের দুই সপ্তাহ দুটি পৃথক ঘুমানোর স্থানে রাখা হয়।

এ সময় তাদের একই রকম খাদ্য দেওয়া হলেও প্রথম পর্যায়ে তাদের প্রতি রাতে সাড়ে আট ঘণ্টা করে এবং অন্যদের সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা করে ঘুমাতে দেওয়া হয়।

গবেষকরা দেখতে পান সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমানোর সময় উভয় দলই ৭ পাউন্ডের একটু কম করে ওজন হারিয়েছে। অপর দিকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় তাদের পেশি কমেছে কিন্তু চর্বি কমেনি।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ গবেষণাটি করেছেন। (Collected from facebook by 
Md.Moshiur Rahman)

সুখে কাটুক শীত

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত দৌড়ান

সিদ্ধার্থ মজুমদারতারিখ: ০৪-০১-২০১২

 

শীতের এ সময়টা কিন্তু বড় সুখের। ফল আর পিঠাপুলির আমেজে দিনগুলো পার করতে চাইলে সুস্থ থাকাটা যে খুব জরুরি। আর তাই জেনে নিন কেমন করে এড়াবেন শীতের রোগবালাই

একটু সতর্কতা
শীতের রোগজীবাণুগুলো এ সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একজন থেকে আরেকজনে। কীভাবে ছড়ায় জীবাণুগুলো? এ খুব সহজ কথা। সংক্রমিত মানুষের হাত থেকে জীবাণুগুলো আটকে থাকে টেবিলে, টেলিভিশনের রিমোটে, কম্পিউটারের কি-বোর্ড কিংবা বাসের হাতলে। কোনো সুস্থ মানুষ এসব জায়গায় হাত দিলে জীবাণু চলে আসে তার হাতে। তারপর হাত থেকে শরীরে এবং শেষে মুখে ঢুকলেই বিপত্তি। তাই এ সময়টা সংক্রমিত লোকের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা থেকে বিরত থাকুন। আর কিছুক্ষণ পরপর ধুয়ে ফেলুন হাত দুখানা।

দৌড়াতে হবে
শীতের দিনগুলোতে ঠান্ডা আমেজে আলস্য এসে ভর করে। আলসেমিকে পাত্তা না দিয়ে দৌড়াতে বের হোন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী-পুরুষ সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন জোরে হাঁটেন ৪৫ মিনিট করে, তাঁদের ঠান্ডা লাগার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অনেক কম। তবে শীতের সকালে দৌড়াতে বেরোলে গরম কাপড় সঙ্গে নিন।

হেঁশেলের যত্ন
রান্নাঘরের সুরক্ষায় একটু বাড়তি যত্নই নিন। এই ঘর থেকেই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের খাবার আসে টেবিলে। তাই খাবারের সঙ্গে যেন জীবাণু না এসে যায়, এ জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা। প্লেট, গ্লাস আর সিংক ধোয়ার স্পঞ্জ কিংবা কাপড়টি প্রতিদিন মাইক্রোওয়েভে দুই মিনিট গরম করে নিন। এ পদ্ধতিতে প্রায় ৯৯ শতাংশ জীবাণু ধ্বংস করা যায়। আর সতর্কতা হিসেবে স্পঞ্জ, কাপড়ের টুকরা মাইক্রোওয়েভে ঢোকানোর আগে ভিজিয়ে নিন। অন্যথায় ফায়ার সার্ভিসকে ডাকতে হতে পারে!

খাওয়া, ব্যায়াম আর ঘুম
শীতে মেলে প্রচুর সবজি। খেতেও হবে। আর মৌসুমি ফলের রসে গলা ভিজিয়ে নিন সুযোগ পেলেই। হালকা ব্যায়াম করতে হবে নিয়মিত। ব্যায়াম একদিকে যেমন কর্মক্ষমতা বাড়াবে, অন্যদিকে মুখেও ফিরিয়ে দেবে রুচি। আর দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। এসব কিছুর মিশেলে শরীরে তৈরি হবে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। দূরে থাকবে রোগ, শীত কাটবে আরামে।

শীতে বাতের সমস্যা

পরামর্শ দিয়েছেন: রওশন আরা | মেডিসিন ও বাতরোগ বিশেষজ্ঞ, গ্রীন লাইফ সেন্টার ফর রিউম্যাটিক কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ, গ্রীনরোড, ঢাকা। তারিখ: ০৪-০১-২০১২



সমস্যা: আমার মায়ের বয়স ৭০ বছর। হাঁটু ও অন্যান্য সন্ধিতে ব্যথা করে। তবে শীতকালে ব্যথায় প্রায় অচল হয়ে পড়েন। গরম সেঁক, ব্যথার ওষুধ খেলে একটু উপশম হয়, কিন্তু এ সময় তিনি প্রায় চলৎশক্তিহীন থাকেন। এমনটি কেন হয় এবং কীভাবে শীতে একে প্রতিরোধ করা যায়।
নাজমা, পাবনা। 
পরামর্শ: আপনার মা সম্ভবত অস্টিওআর্থ্রাইটিসে (বয়সজনিত বাত) ভুগছেন। শীতে সব বাতব্যথাই বেশি অনুভূত হয়। কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল, গরম কাপড় ও হাত-পায়ে মোজা পরাতে পারেন। অস্টিওআর্থ্রাইটিস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। তবে ওজন বেশি হলে কমিয়ে, হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থেকে এবং নিয়মিত কিছু হাঁটুর ব্যায়াম করে অপেক্ষাকৃত ভালো থাকা সম্ভব। প্রয়োজনে ব্যথার ওষুধ খেতে পারেন। এ ছাড়া তাঁর শরীরে অন্য কোনো বাত আছে কি না, তা দেখার জন্য বিস্তারিত ইতিহাস ও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারলে ভালো হয়। 
সমস্যা: আমার বয়স ৪২। কিছুদিন আগে হঠাৎ হাতের বুড়ো আঙুলের সন্ধি ফুলে যায়। চিকিৎসক পরীক্ষা করে বললেন, ইউরিক এসিড বেড়েছে এবং এসলোরিক ট্যাবলেট খেতে দিলেন। শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ওষুধ না খেয়ে কি ইউরিক এসিড কমানো সম্ভব? উল্লেখ্য, আমার ইউরিক এসিড ছিল ৮ দশমিক ২ মিলিমোল। 
শামসুজ্জামান, নীলক্ষেত, ঢাকা। 
পরামর্শ: বর্তমানে ইউরিক এসিড কমানোর জন্য ব্যাপক খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন নির্দেশিত নয়। শুধু লাল মাংস (গরু/খাসি) ও সামুদ্রিক মাছ কম খেতে হবে। তবে প্রথমবার আক্রান্ত হলেই সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি এসলোরিক ট্যাবলেট খাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের ওপরও ওষুধ সেবনের প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে। এ বিষয়ে তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো। 
সমস্যা: আমি একটি কম্পিউটার গ্রাফিক্স ফার্মে কাজ করি। সারা দিন কম্পিউটারের সামনে বসতে হয়। রাতে ফেরার পর প্রায় প্রতিদিনই ঘাড়ে ব্যথা ও টন টন করে। ইদানীং এটি বেড়েছে। আমার কী করা উচিত?
জিল্লুর রহমান, উত্তরা, ঢাকা। 
পরামর্শ: আপনার অফিসের কম্পিউটার এবং চেয়ারের উচ্চতা ও দূরত্ব এমনভাবে পরিবর্তন করতে হবে যেন কাজ করার সময় ঘাড়ে চাপ কম পড়ে। দীর্ঘ সময় একইভাবে কাজ না করে মাঝেমধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য বিরতি নিয়ে ঘাড় ও পিঠের স্ট্রেচিং করবেন। এ ছাড়া নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম করলেও উপকার পাবেন।

এই শীতে শিশুর রোগবালাই

 

 শীতে এই শিশুটির মতোই সুস্থ থাকুক আপনার শিশু

 অধ্যাপক তাহমীনা বেগম | শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু বিভাগ, বারডেম। তারিখ: ০৪-০১-২০১২

 

  

আজকাল পত্রিকার পাতা খুললেই দেখতে পাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বা মারা যাচ্ছে। শীতের এই সময়ে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, তার মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া অন্যতম।

সব শিশুর কিন্তু নিউমোনিয়া হয় না, যদি শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো না হয়, শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে, শিশুদের সামনে ধূমপান করা হয়, শিশুদের ভিটামিন এ-র অভাব থাকে, শিশুদের সঙ্গে পরিবারের অনেক লোক এক ঘরে থাকে, শিশুকে টিকা দেওয়া না হলেই শুধু তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। ঘনবসতি ও বায়ুদূষণও নিউমোনিয়ার কারণ। 

শিশুর সর্দি, কাশি, সামান্য জ্বর, নাক বন্ধ থাকলে বা বুকে শব্দ হলেই মনে করার কোনো কারণ নেই যে শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। এই লক্ষণগুলোর সঙ্গে যদি শিশু দ্রুত শ্বাস নেয় বা বুকের পাঁজরের নিচের অংশ ভেতর দিকে দেবে যায়, তাহলে বুঝতে হবে শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। 
সাধারণ সর্দি, কাশি ও জ্বরের চিকিৎসা বাড়িতেই করা সম্ভব।

 কী করবেন 

  •  জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল সিরাপ দিন, ভেজা নরম কাপড়ে বারবার শরীর মুছে দিন। 
  •  সর্দি পড়লে নরম কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করুন। 
  •  সামান্য কাশিতে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু দিয়ে শিশুকে খেতে দিন। আদা ও মধু বা তুলসীপাতার রস ও মধু মিলিয়ে খাওয়ালেও কাশি কমে যায়। কাশি বেশি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
  • শিশুকে প্রতিদিন কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করান। 
  • শিশু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এমন কাপড় পরান।
  • দরজা-জানালা খোলা রাখুন, যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। 
  • বারবার বুকের দুধ দিন।
  • ফলমূলসহ পরিবারের সব খাবার শিশুকে খেতে দিন। অনেকের ধারণা, কলা, কমলা, লেবু ইত্যাদি খেলে কাশি বেড়ে যাবে। এসব ধারণা ভুল। 
  •  আপনার শিশু যদি নবজাতক হয়, তাহলে কিছুটা বাড়তি সাবধানতা আপনাকে নিতে হবে। বাচ্চাকে ভালোভাবে ঢেকে রাখবেন। মাথায় টুপি, মোজা পরাবেন। সিনথেটিক কাপড় না পরিয়ে মোটা সুতি বা উলের জামা কাপড় পরালে শিশু আরাম বোধ করবে। বেশি শীত থাকলে গোসল না করিয়ে শরীর ও মাথা মুছে দিতে পারেন। অনেকে তেল মেখে শিশুকে রোদে ফেলে রাখেন, এতে করে বরং শিশুর বেশি ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। আপনার নবজাতক শিশুকে শুধু বুকের দুধ দিতে হবে—এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। 

কখন শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে 
  •  শিশু দ্রুত শ্বাস নিলে
  •  পাঁজরের নিচের অংশ ভেতর দিকে দেবে গেলে
  •  শ্বাসকষ্ট হলে
  •  খেতে না পারলে 
  •  জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলে
  •  শিশু যা খাচ্ছে সবকিছু বমি করলে
  •  শিশু নিস্তেজ হয়ে গেলে। 

শীতে পালংশাক

 ফারহানা মোবিন, তারিখ: ২৫-০১-২০১২,

  

শীতের শাকের মধ্যে পালংশাক একটি পরিচিত নাম। এতে রয়েছে গাজরের চেয়ে বেশি পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন। এ বিটা ক্যারোটিন শরীরের টিউমার, ক্যানসার, সিস্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। বিশেষ করে, ফুসফুস, মুখের ভেতর-বাহির ও পাকস্থলীর ক্যানসার দূরে সরায় পালংশাক। পালংশাককে ইংরেজিতে বলে স্পিনাচ। ওজন কমাতে এ শাক রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কারণ, এতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। অন্যান্য ভিটামিনের মধ্যে এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, ই, কে, ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম। ভিটামিন ‘এ’ চোখের ওপর ক্রিয়াশীল। চোখের প্রতিটি শিরা-উপশিরা, স্নায়ু, মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে এ ভিটামিন। 
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পালংশাক জরুরি খাদ্যপ্রাণ। এতে চিনির পরিমাণ নেই বললেই চলে। তাই রক্তে চিনির মাত্রা বেশি, এমন রোগীদের জন্য পালংশাক যথাযোগ্য। জিংক নামক উপকরণ ডায়রিয়া-পরবর্তী সময়ে শিশু ও বড়—সবার জন্যই দরকারি। পাঠক, খেয়াল রাখুন, ডায়রিয়া চলাকালে সবার জন্য যেকোনো শাক খাওয়া অনুচিত। এ সময়ের উপকারী সবজি হলো কাঁচকলা ও আলু। কিন্তু পালংশাকে জিংক থাকার জন্য ডায়রিয়া ভালো হওয়ার পরে খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে। কারণ, জিংক ডায়রিয়াজনিত শিশুদের বানায় শক্তিশালী। আর পুরুষের শুক্রাণুকে জিংক করে আরও উর্বর।
গর্ভস্থ শিশুদের জন্যও জিংক আশীর্বাদস্বরূপ। গর্ভবতী মায়ের রক্ত বৃদ্ধি ও গর্ভস্থ শিশুর বর্ধনের জন্য পালংশাক উপকারী বন্ধু। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া নারী-পুরুষের জন্যও এটি ভীষণ জরুরি। কারণ, ক্যালসিয়ামে ভরপুর এ শাক। কিন্তু কোনো শাকই রাতে খাওয়া উচিত নয়। রাতের বেলা শাক অনেকেরই এসিডিটি তৈরি করে। সঠিক পুষ্টি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত তেল, মসলা বাদ দিয়ে এ শাক রান্না করা উচিত। আর স্যুপ বানিয়ে খেতে পারলে আরও ভালো। উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাডপ্রেশার) নিয়ন্ত্রণ করে পালংশাক। হূৎপিণ্ডকে সঠিকভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে বলেই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ হয়। 
লিভারে সমস্যা, আর্থ্রাইটিস (যাদের শরীরের প্রতিটি হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা), কিডনি ও পিত্তথলিতে (গলব্লাডার বা পিত্তথলি) পাথর রয়েছে, এমন রোগীদের পালংশাক পরিহার করাই শ্রেয়। কারণ, পালংশাক এ রোগীদের শরীরে অক্সালেট নামের একধরনের উপকরণ তৈরি করে, যা দেহে পাথরের পরিমাণ বাড়ায়। তাই নিজের দেহের অবস্থা বুঝে শাক খান।
ফসফরাস নামক খনিজ লবণ রয়েছে এ শাকে। এ লবণ দাঁত, হাড়, চুল, ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। তাই সুস্থ থাকার জন্য পালংশাক হোক আপনার সহযাত্রী। কিডনিতে পাথর নেই কিন্তু অল্প সমস্যা রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা পালংশাক সিদ্ধ করে পানি ফেলে দিয়ে খেতে পারেন।