Bangladeshi Broadsheet

One stop web portal for Bangladeshies in Australia

শীত-ফ্যাশনে দেশি জ্যাকেট

গত দুই সপ্তাহে হাড়কাঁপানো শীত বাধ্য করেছে গায়ে শীতের কাপড় তুলতে। কিন্তু শীতের কাপড় গায়ে নেওয়া মানেই তো পোশাকের সব ফ্যাশন একেবারে মাটি। আর এই বিষয়টি মাথায় রেখেই ফ্যাশন হাউসগুলো বাজারে এনেছে ফ্যাশনেবল জ্যাকেট। এই জ্যাকেটগুলো মেয়েরা ব্যবহার করতে পারবেন শীতের ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গ হিসেবে। 
রঙের ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, এই জ্যাকেটগুলো তৈরিই করা হয়েছে শীতে প্রয়োজন ও ফ্যাশন দুটি বিষয়ের কথা মাথায় রেখে। একদমই দেশি কাপড়ে দেশি নকশায় তৈরি হয়েছে এগুলো।

দেশি ঢঙে তৈরি জ্যাকেটগুলো তরুণেরা পরতে পারেন শীতে। মডেল: ইশানা পোশাক: রঙএ ধরনের জ্যাকেট তৈরিতে ‘রঙ’ ব্যবহার করেছে খাদি কাপড়। কাপড়ের গঠনে এসেছে বেশ ভারী ও রুক্ষ টেক্সচার। 
বিপ্লব সাহা বলেন, খাদি কাপড়েই এই জ্যাকেটের প্যাটার্ন ঠিক থাকে। আর খাদিতে নকশা ও বুননের সমন্বয়ে জ্যাকেটে আনা যায় বৈচিত্র্য।
বিবিয়ানাও এ ধরনের জ্যাকেট এনেছে এবারের শীতের সম্ভারে। লিপি খন্দকার জানালেন, তাঁরা মূলত টপ-প্যান্ট, শাড়ির সঙ্গে পরার জন্যই এ রকম জ্যাকেট বাজারে এনেছেন। এখন তো বিভিন্ন ধরনের প্যান্ট ও লেগিংসের ব্যবহার ফ্যাশনে চলছে। তার সঙ্গে জ্যাকেটগুলো মানানসই।
জ্যাকেটের কাটিং প্যাটার্নের মধ্যেও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। কিছু জ্যাকেট সামনে খোলা। তাতে হয়তো বোতাম বা ফিতা ব্যবহার করা হয়েছে আটকানোর জন্য। এ ধরনের জ্যাকেট ব্যবহার করা যেতে পারে কুর্তা, টপস, শাড়ির সঙ্গে। আবার ক্ষেত্রবিশেষে সালোয়ার-কামিজের সঙ্গেও ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার কতগুলোতে সামনে খুব ঘন বোতাম ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে জ্যাকেটের সামনে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকে। এ ধরনের জ্যাকেট লেগিংস, চাপা জিন্স দিয়েও পরা যেতে পারে।
খাদি কাপড়ে তৈরি এসব জ্যাকেটের বেশির ভাগেই প্রাধান্য পেয়েছে বুনন বৈচিত্র্য। চেক, স্ট্রাইপ এসব নকশাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বুনন বৈচিত্র্য ছাড়াও জ্যাকেটগুলোতে করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নকশা। এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে টাইডাই ও ব্লকপ্রিন্ট। কোনো কোনো জ্যাকেটে টাইডাইয়ের সঙ্গে ব্লকপ্রিন্ট ও হাতের কাজও দেখা গেছে। আর বোতাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নারকেলের মালা, কাঠ, কড়ি, পুঁতি।

লিপি খন্দকার জানালেন, এই জ্যাকেটগুলো যেকোনো আনুষ্ঠানিক দাওয়াতে যেমন পরা যাবে, তেমনি অনানুষ্ঠানিক আয়োজনেও মানানসই। যাঁরা সব সময় শাড়ি পরে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য লিপি খন্দকারের পরামর্শ হলো, শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে শালের বদলে এই জ্যাকেট পরলে তা অনেক বেশি ফ্যাশনেবল দেখাবে।
দোকানে যদি মনমতো নকশা বা বুননে না পাওয়া যায়, তাতে কোনো সমস্যা নেই। দর্জিবাড়ি গিয়ে নিজের মতো করে নকশা দিয়ে নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন শীতের জ্যাকেট। খাদি কাপড়ের বদলে অন্য যেকোনো কাপড় দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে এ ধরনের জ্যাকেট। বাজারে পছন্দসই শাল কিনে সেটা কেটেও তৈরি করতে পারেন এই ধরনের জ্যাকেট। সুন্দর সুন্দর বোতাম কিনে নিতে পারবেন চাঁদনীচক থেকেই। আর চাইলে তো লেসেরও ব্যবহার করা সম্ভব। নিজের পছন্দমতো যেকোনো রঙে এবং যেকোনো নকশাতেই তৈরি করে নেওয়া যায় এই জ্যাকেট।
এ ধরনের জ্যাকেট কিনতে পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। আর দেশী দশে খোঁজ করে কিনে নিতে পারেন দেশীয় কাপড়, নকশা, বুনন ও ধরনে তৈরি এসব জ্যাকেট। এ ধরনের জ্যাকেটের দাম পড়বে ৬৫০ থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকা। 
দাম যতই হোক না কেন, বাজার ঘুরে দেখা গেল এই জ্যাকেটগুলোই শীতের ফ্যাশনেবল পোশাক। হোক সেটা পার্টি বা ঘরোয়া অনুষ্ঠান, শাড়ি অথবা টপস—সবটাতেই মানানসই।

ফারহানা আলম | তারিখ: ০৩-০১-২০১২